লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্যাঁচার ভাণ্ডার হবে, তারাপীঠে বললেন সুকান্ত মজুমদার

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২২ অক্টোবর: মুখ্যমন্ত্রীর সাধের প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার কতদিন চলবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, এই প্রকল্প আগামী দিনে প্যাঁচার ভান্ডার হবে কিনা সেটা ভবিষ্যতে বলবে। কারণ রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। শুক্রবার তারাপীঠে পুজো দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তারাপীঠে আজ সকালে মা তারার পুজো দেন দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদার।

জেলা সফরে বেরিয়ে বৃহস্পতিবার বীরভূমে আসেন বর্তমান ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষ। সিউড়িতে কর্মী বৈঠকের পর রাতেই তারাপীঠ পৌঁছে যান তাঁরা। আজ সকালে তারাপীঠে পুজো দিয়ে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সঙ্গে ছিলেন দলের জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মা তারার কাছে প্রার্থনা করলাম বাংলায় যেন শান্তি ফিরে আসে। আমাদের কাছের জায়গা বাংলাদেশে যে পরিস্থতির সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে যেন তা না হয়। মা তারা যেন পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ হতে না দেন সেই প্রার্থনা করলাম।”

রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে কটাক্ষ করে সুকান্তবাবু বলেন, “রাজ্য সরকারের কোষাগারের দূরাবস্থা। এতটাই অর্থনৈতিক দূরাবস্থা যে কেন্দ্রের কিছু প্রকল্প রাজ্যে চালু করতে সরকার রাজি হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে জানতে পারলাম। অথচ এতদিন তা চালু করেনি।” সুকান্তবাবু বলেন, “রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কোনও ধারণা নেই। অর্থমন্ত্রী রাজ্যের অর্থনীতি দেখেন না। মুখ্যমন্ত্রী যখন যা খুশি ঘোষণা করেন। এমনকি ডিএ ঘোষণা করলেও মুখ্যমন্ত্রী করেন। রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে সুস্পষ্ট চিন্তাভাবনা এখনও পর্যন্ত আমরা দেখতে পাইনি।”

এই আর্থিক অবস্থার কারণেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বেশি দিন চলবে না বলে মনে করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে আপনারা দেখেছেন দুয়ারে রেশন প্রকল্প নিয়ে ডিলাররা বলে দিয়েছেন এভাবে প্রকল্প চলতে পারে না। কারণ এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ নেই। কারণ বাড়িতে রেশন পৌঁছে দিতে গেলে কর্মী লাগবে, গাড়ির তেল লাগবে। কিন্তু বাজেটে তা বরাদ্দ করা হয়নি। এসবই চমক। এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কতদিন চলবে, না পরে প্যাঁচার ভাণ্ডার হবে তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।”

দিলীপ ঘোষ বলেন, “সরকারের অবস্থা এখন লক্ষ্মী ছাড়া। পাঁচ’শো টাকার জন্য মা বোনেদের রাস্তায় নামিয়ে আনলেন।” ত্রিপুরা এবং গোয়ায় নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “ত্রিপুরা–গোয়া অনেকদূর। আগে পশ্চিমবঙ্গের লোককে বাঁচিয়ে রাখুন। ত্রিপুরার লোকের মাথা খারাপ হয়নি যে তৃণমূলের মতো একটি পাগল, সন্ত্রাসী দলকে ক্ষমতায় আনবে।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here