দক্ষিণ দিনাজপুরে বিজেপি কর্মাধ্যক্ষদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের অনাস্থার চিঠি, আদালতে যাচ্ছে বিজেপি, জটিলতার আশঙ্কা

আমাদের ভারত, বালুরঘাট, ২৬ নভেম্বর: বিজেপি কর্মাধ্যক্ষদের সরাতে স্থায়ী সমিতিগুলির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে ডিভিশনাল কমিশনারকে চিঠি তৃণমূলের সদস্যদের। এই নিয়ে শোরগোল দক্ষিণ দিনাজপুরে। এর বিরুদ্ধে আদালতে যাচ্ছে বিজেপির কর্মাধ্যক্ষরা। জটিলতায় ফের উন্নয়ন স্তব্ধ হবার আশঙ্কা জেলাপরিষদে। সোমবার তৃণমূলের ১৩ জন সদস্য অনাস্থার কাগজে সই করে জেলাশাসক মারফত ডিভিশনাল কমিশনারকে আবেদন জানাতেই উস্কে উঠেছে বিজেপি – তৃণমূলের তরজা।

বিজেপির দিকে থাকা জেলাপরিষদের কৃষি ও সেচ বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ শঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত নিয়মানুযায়ী আড়াই বছর আগে কোনও কর্মাধ্যক্ষকেই তাঁর পদ থেকে সরানোর নিয়ম নেই। কিন্তু এখানে গায়ের জোরে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে অনাস্থা প্রক্রিয়ার জন্য জেলা শাসকের মাধ্যমে ডিভিশনাল কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছে তৃণমূল সদস্যরা। যার কপি তাঁদেরও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হচ্ছেন তারাও।

১৮ আসন বিশিষ্ট দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদে সভাধিপতি, কৃষি কর্মাধ্যক্ষ, পূর্ত ও মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ মিলিয়ে মোট ৫ সদস্য রয়েছে বিজেপির। এদিকে ১৩ সদস্য নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ থেকেও জেলাপরিষদে কাজ করতে পারছে না তৃণমূলের সদস্যরা। জেলা পরিষদের উন্নয়নের বেশিরভাগ স্থায়ী সমিতিতে বিজেপির সদস্যরা থাকায় একপ্রকার হাতগুটিয়ে থাকতে হচ্ছে তৃণমূলের সদস্যদের। আর যার জেরে গঙ্গারামপুরের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ধমকও খেতে হয় জেলাশাসক ও অতিরিক্ত জেলাশাসকদের। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন থমকে থাকা জেলার উন্নয়নে গতি আনতে মুখ্যমন্ত্রীর ধমকের পরেই জেলার একাধিক উন্নয়ন কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করে সহ সভাধিপতি সহ শাসক দলের কর্মাধ্যক্ষরা। কিন্তু বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বিজেপির দিকে মূল ভূমিকায় থাকা অনান্য কর্মাধ্যক্ষরা। এমন পরিস্থিতিতে পথের কাঁটা সরাতে তড়িঘড়ি অনাস্থা প্রক্রিয়ার জন্য জেলা শাসকের মাধ্যমে ডিভিশনাল কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়েছে তৃনমূলের সদস্যরা। যাকে ঘিরেই পাল্টা আদালতে যেতে চলেছে বিজেপির কর্মাধ্যক্ষরাও। ফলে কিছুদিন আগে জেলা পরিষদ থেকে একাধিক প্রকল্পের টাকা ঘুরে যাবার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল এই জটিলতায় তা ফের একবার প্রকট হবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যদিও জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি ললিতা টিগ্‌গা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলায় উন্নয়নের কাজ শুরু করা হয়েছে। তা এগিয়ে নিয়ে যেতেই অনাস্থার আবেদন ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। ১৩ জন সদস্য এব্যাপারে সহমত পোষন করেছেন।

জেলা তৃণমূল সভাপতি অর্পিতা ঘোষ জানিয়েছেন, সোমবার অনাস্থা প্রক্রিয়ার জন্য জেলা শাসকের মাধ্যমে ডিভিশনাল কমিশনারকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here