সভার মতো বিজেপিও বাংলায় চিরকাল ভার্চুয়াল থাকবে: গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ তৃণমূলের

চিন্ময় ভট্টাচার্য, আমাদের ভারত, ৯ জুন: ভার্চুয়াল সভা থেকে ২১-এ বাংলা জয়ের লক্ষ্যে মঙ্গলবার দামামা বাজিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। জবাবে প্রতিআক্রমণের রাস্তায় হেঁটে গেরুয়া শিবিরের এই ভার্চুয়াল সভাকে কার্যত মস্করার পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়া, ‘সভার মতো বিজেপিও বাংলায় চিরকাল ভার্চুয়াল থাকবে।’ শুধু ভার্চুয়াল সভাই নয়, এদিন পরিযায়ী শ্রমিকের দুদর্শা থেকে শুরু করে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভাষণ সর্বস্বতার অভিযোগও আনেন এই তৃণমৃল নেতা।

মঙ্গলবার নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল জনসভায় বিজেপির সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অমিত শাহ একাধিক বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূল সরকারকে দোষারোপ করেন। ঠিক তার পরই তৃণমূলের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি চিরকাল ভার্চুয়ালই থাকবে। মানুষের পাশে বাস্তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকবেন। যাঁরা বাংলার মানুষের জন্য কিছু ভাবে না, বাংলার প্রাপ্য টাকা দেয় না, তাঁরাই ফেসবুক করে, ভার্চুয়াল সভা করে বাংলাকে দেশের কাছে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভার্চুয়াল সভা করছে। অথচ এই হাজার হাজার কোটি টাকা যদি পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে তুলে দিত, তাহলে বুঝতাম কিছু হয়েছে। কিন্তু, সেসবে নেই। মানুষ খেতে পাচ্ছে না, অথচ এঁরা রাজনীতি করার জন্য কোটি কোটি টাকা করছেন।’

পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানো প্রসঙ্গেও এদিন কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন অরূপ বিশ্বাস। তিনি বলেন,’আজ যদি মোদি সরকার পরিযায়ী শ্রমিকদের আগে ঘরে ফেরাতে পারত, তাহলে লাভ হত। পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে পারতেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি তা করলেন না, থালা বাজিয়ে নিজের নাম উজ্জ্বল করতে চাইলন। আর তা করেই তিনি করোনাকে আরও ছড়িয়ে দিয়েছেন।’

আগামী বছরের বিধানসভায় রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাও এদিন ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘বিজেপি আসলে কাগুজে বাঘ, ভাষণ সর্বস্ব দল। বিজেপি যা করে, তা বলে না, আর যা বলে, তা করে না। বলেছিল ১৫ লক্ষ টাকা সবার অ্যাকাউন্টে পৌঁছবে। কিন্তু, পৌঁছেছে? বছরে দুই কোটি বেকারের চাকরি হবে বলেছিল, হয়েছে? বিদেশ থেকে কালো টাকা নিয়ে আসবে বলেছিল, এসেছে? বলেনি নোটবন্দি হবে, কিন্তু হয়েছে! ৩৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে দেশে বেকার তৈরি করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁরা কি না বলছে, সোনার বাংলা গড়বে !’

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here