শিলিগুড়ির নন্দীবাড়িতে মাদুর্গাকে বাড়ির মেয়ে হিসেবে পুজো করা হয়

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ২৪ সেপ্টেম্বর: করোনার থাবায় যখন থমকে গিয়েছে জীবন। ঠিক তখন আকাশের পেঁজা তুলোর মত মেঘ। মাঠে মাঠে কাশফুল। পাড়ায় পাড়ায় শিউলি ফুল জানান দিচ্ছে মা আসছে। করোনা বধ করতে মর্ত্যে মায়ের আগমণ হচ্ছে। আর সেই আশাতেই বুক বেঁধেছে বারোয়ারী পুজা থেকে বাড়ির পুজোর সদস্যরা।

শিলিগুড়ি শহরে বারোয়ারি পুজোর পাশাপাশি প্রচুর বাড়িতেও পুজো হয়। নিষ্ঠার সাথে নিয়ম মেনে পাঁচদিন ধরে মায়ের আরাধনায় কেটে যায় পরিবারের সদস্যদের। নবগ্রামের নন্দী বাড়ির পুজো এরকমই এক পুজো। এই পুজোতে স্বপরিবারে প্রসাদ খেতে এসেছিলেন ভারতীয় টেস্ট দলের উইকেটরক্ষক ঋদ্ধিমান সাহা। ১৪বছর ধরে এই পরিবারে পুজো চলছে। বাবার ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়েই পুজো শুরু হয়ে যায় নন্দী বাড়িতে। প্রথমে ছোট করে হলেও পরে বেশ জাঁকজমকভাবে পুজো হয়। অষ্টমীতে ৫০০ লোক ভোগ খেতে আসে। কিন্তু করোনার ধাক্কায় গত বছর থেকে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের নিয়েই চলছে পুজো। এবছরও পুজো হবে একইভাবে অর্থাৎ শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যরাই উপস্থিত থাকতে পারবেন।

পরিবারের ছোট ছেলে আইনজীবী তাপস নন্দী বলেন, বাবা মন্মথ চন্দ ছিলেন স্কুল শিক্ষক। তিনি বরাবর চেয়েছেন বাড়িতে দুর্গা পুজা হোক। আমি আর দাদা যখন প্রতিষ্ঠিত হলাম তখন বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই পুজা শুরু করি। কিন্তু ধীরে ধীরে আমাদের বাড়ির পুজো এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে আর বন্ধ করিনি। এখনও এই পুজো করে যাচ্ছি। যতদিন পারব চেষ্টা করব পুজো করে যাওয়ার। তবে করোনার জন্য কাউকে নিমন্ত্রণ করতে না পারায় খুব খারাপ লাগে আমাদের।

পুজোর সময় বাড়িতে হাজির হয় পরিবারের প্রতিটি সদস্য। এমনকি মন্মথবাবুর নাতি-নাতনি সহ তাদের স্বামী-সন্তানরাও হাজির হন। গোটা বাড়ি আলোর মালায় সেজে ওঠে। ওই চারদিন নন্দী বাড়ির পুজো পাড়ার লোকেদের কাছেও আপন হয়ে যায়। মন্মথবাবুর নাতনি মৌমিতা মিত্র বলেন, ঋদ্ধিমান আমার ছোটবেলার বন্ধু। ওকে প্রতিবার আসতে বলা হয়। দুইবার আমাদের পুজোয় এসেছিল। একবার ওর বিয়ের আগে আরেকবার স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে। তিনি আরও বলেন, আমাদের পুজোর বিশেষত্ব আমরা মাকে বাড়ির মেয়ে হিসেবে পুজো করি। মাকে এনে বরণ করে ঘরে তোলা হয়। তারপর ষষ্ঠী থেকে দশমী মা আমাদের বাড়িতে পুজিত হন। আর আমরা এই দিনের অপেক্ষায় থাকি। এই চারদিন সব গ্লানি ভুলে শুধুই আনন্দে মেতে থাকি আমরা। আর দশমীর দিন ঢাকের তালে নাচতে নাচতে বাড়ি থেকে নিরঞ্জন ঘাট পায়ে হেটে যাই আমরা। তবে পুজোর সময় নিরামিষ খাওয়া-দাওয়া হয় তাই পুজো শেষে একদিন পরিবারের সকলে আমিষ ভোজন হয়। ওটাই আমাদের কাছে বিজয়া দশমী পালন।

নন্দী বাড়ির পুজো এখন নবগ্রাম সহ শিলিগুড়িতেও পরিচিত। তবে করোনার বিধিনিষেধে গত বছর থেকে ছোট করেই পুজো সারা হচ্ছে। কিন্তু করোনা লুপ্ত হলেই ফের নন্দী বাড়িতে নিমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন শুরু হবে। তাই গোটা পরিবার এখন মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা করছে করোনা শেষ করে পুরনো দিন ফিরিয়ে দাও।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here