সাধ্যমত করছি, কাজ করতে দিন, নাহলে আমায় গুলি করুন অথবা মাথা কেটে নিন: মমতা

আমাদের ভারত, ২২ মে :”আমি ও আমার টিম কেউ ৩ দিন ঘুমায়নি। দিনরাত এক করে কাজ করছি। সব রাজনৈতিক দলকেই বলবো কিছুদিনের জন্য ক্ষান্ত হন।কাজ করতে দিন। পছন্দ না হলে আমাকে গুলি করুন। না হলে আমার মাথা কেটে নিন।” জল-বিদ্যুৎ না পেয়ে মানুষের লাগাতার বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত এভাবেই নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মানুষকে ধৈর্য ধরতে বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের মন্তব্যে কিছুটা হতাশাও ধরা পড়েছে।

একে তো করোনা, তার ওপর আমফান। এই দুয়ের মোকাবিলা করছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। দিনরাত এক করে কাজ করছে প্রশাসন কিন্তু মানুষ কেউ ধৈর্য ধরতে হবে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যবাসীকে সেই বার্তাই দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কাকদ্বীপ থেকে ফিরে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সুন্দরবনের মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তারা তো ধৈর্য হারাচ্ছেন না, তাহলে আপনারা কেন ধৈর্য ধরছেন না? আমরা সাধ্যমতো কাজ করছি।” মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, “আমি ও আমার টিম কেউ ৩ দিন ঘুমায়নি। দিনরাত এক করে কাজ করছি। সব রাজনৈতিক দলকেই বলবো কিছুদিনের জন্য ক্ষান্ত হন।কাজ করতে দিন। পছন্দ না হলে আমাকে গুলি করুন। না হলে আমার মাথা কেটে নিন।”

কাকদ্বীপ যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ১৯৩৭ এর পর আমফান বাংলার সবচেয়ে বড় দুর্যোগ। নবান্নে বৈঠক করতে গিয়েও তিনি বলেন এটা একটা বড় দুর্যোগ। সময় লাগবেই। এটা করোনার চেয়েও ভয়ঙ্কর। জাতীয় বিপর্যয় থেকেও বড় কিছু।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রচুর বড় বড় গাছ পড়েছে।মোটা মোটা গাছ পড়েছে যা এর আগে কখনো হয়নি। শুধু উত্তর ২৪ পরগনা ১০ লাখ বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। ৪৫ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে। এগুলি রাতারাতি সম্ভব নয়।

একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন ,”সিইএসসি আমাদের হাতে নেই। আমাদের হাতে যা আছে করছি সব। বিদ্যুতের তার জোড়া লাগাতে চাই দক্ষ কর্মী। তার জন্য ইতিমধ্যেই ঝাড়খন্ড ওড়িশা সরকারের সঙ্গেও সাহায্যের জন্য কথা বলেছি। কলকাতায় মোট ১২৫ টি টিম কাজ করছে। সারা বাংলায় কাজ করছে হাজার খানেক টিম। সেনার সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কিছু জেনারেটর চেয়েছি। এগুলি দিয়ে জরুরী বিভাগের কাজ চালানো হবে। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সল্টলেক স্টেডিয়াম নেতাজী ইনডোর কেউ বলেছি। ৮০ থেকে ৯০টা জেনারেটর জোগাড় করেছি। মুখ্যমন্ত্রী জানান করোনার কারণে পপুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়ছে। বহু অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। লক ডাউনের জন্য লোকবল কম। ফলে দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব। তার মধ্যে চারিদিক স্যানিটেশন করা হচ্ছে। ৭৫% দোকান বন্ধ। ট্রেন বন্ধ। কর্মীরা আসতে পারছেন না। তাও সরকারি সব বাস চালাতে বলেছি। বেসরকারি বাস চালাতে অনুরোধ করেছি। ছুটির মধ্যেও কাজ চলবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আমফান মোকাবিলা একটি ফান্ড তৈরির কথাও জানান। ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সেই ফান্ডে সাহায্য করার আবেদন জানান।

তবে “আমায় গুলি করে মারুন না হলে মাথা কেটে নিন।” এই মন্তব্যে ওয়াকিবহাল মহল মুখ্যমন্ত্রী হতাশা ধরা দিচ্ছে বলেই মনে করছেন। কারণ আমফান আসার আগে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রকে বলেছিলেন সামলে নেবেন সবটা। কিন্তু তা হল না। প্রকৃতির সামনে সব তুচ্ছ হয়ে গেল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। বিপর্যয় মোকাবিলায় কেন্দ্রের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় থাকল না রাজ্যের কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here