সুর নরম! শর্তসাপেক্ষে কিষান সম্মান ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করতে চায় রাজ্য, মোদীকে চিঠি মমতার

আমাদের ভারত, ২২ সেপ্টেম্বর: কিছু দিন আগেই সুপ্রিম কোর্টও জানতে চেয়েছিল কেন দেশের সব রাজ্যে কেন্দ্রের প্রকল্প কার্যকর হয়নি। আঙুল উঠেছিল রাজ্য সরকারের দিকে। এবার শেষমেষ সুর নরম করলো রাজ্য সরকার শর্তসাপেক্ষে কিষান সম্মান ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করতে চায় রাজ্য, বলে মোদী সরকারেকে চিঠি দিল মমতা।

লোকসভা ভোটের আগে মোদী ও তার দলের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত ও প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মান প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেয়নি তৃণমূল শাসিত সরকার। সংকীর্ণ রাজনীতির জন্য এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতছ হয়েছে রাজ্যের গরিব মানুষদের।প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির তাবড় নেতা, রাজ্যপাল সকলেই সোচ্চার হয়েছেন এই নিয়ে। আর এই পরিস্থিতি একরকম আচমকাই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন ও কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমরকে চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, তার রাজ্যে তিনি “আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প” ও “কৃষক সম্মান প্রকল্প” বাস্তবায়নে তিনি সম্পূর্ণ রাজি। কিন্তু তার জন্য রয়েছে কিছু শর্ত।

চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের জন্য সমগ্র খরচ কেন্দ্রকেই বহন করতে হবে এবং ওই প্রকল্পের অর্থ রাজ্য সরকারের মাধ্যমে খরচ করতে হবে কেন্দ্রকে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি কৃষক সম্মান প্রকল্প রূপায়নের জন্যেও রাজ্য রাজি। তবে কৃষকদের প্রাপ্য টাকা রাজ্য সরকারকে দিতে হবে কেন্দ্রকে। আর তারপর রাজ্য সরকার তা কৃষকের কাছে পৌঁছে দেবে।

বলাইবাহুল্য, কেন্দ্রের অনুদানে চলা প্রকল্পের টাকা বর্তমানের উপভক্তাদের ব্যাংক একাউন্টে সরাসরি কেন্দ্র সরকার পাঠিয়ে দেয়। এই ব্যবস্থা যে মোদী সরকারের আমলে শুরু হয়েছে তা নয়, মনমোহন সিং সরকার এর মূল প্রবক্তা ছিলেন। এই উদ্দেশ্য ছিল, উপভোক্তার কাছে সরাসরি টাকা না পাঠালে অনিয়মের ঝুঁকি থেকে যায়, দুর্নীতি হয়।

কেন্দ্রকে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর দেশ এই শর্ত নিয়ে বিজেপি পাল্টা সমালোচনায় মুখর হয়েছে। বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেছেন, আম্ফান ত্রাণের জন্য এক হাজার কোটি টাকা কেন্দ্র রাজ্য সরকারকে দিয়েছিল। সেই টাকা তৃণমূলের নিচের তলার লোকজন লুটেপুটে নিয়েছে, যার সাক্ষী রাজ্যের মানুষ। রেশনের চাল নিয়েও দুর্নীতি হয়েছে। ভোটের আগের টাকা লুটের জন্যই এ শর্ত চাপাতে চাইছে তৃণমূল সরকার। আসলে গরিব মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কোনো ভাবনা নেই তাদের।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন বাংলায় স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প ইতিমধ্যেই শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্প খাতে রাজ্যের সাড়ে সাত কোটি মানুষ পরিষেবার সুবিধা পায়। পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা চিকিৎসার জন্য খরচের ব্যবস্থা রয়েছে এই প্রকল্পে। আবার কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় কৃষক ও ভাগ চাষিরা বছরে ৫ হাজার টাকা করে পায়। রাজ্যের ৭৩ লক্ষ কৃষকের প্রকল্পের সুবিধা পান। এ বিষয়ে বিজেপি,বাম ও কংগ্রেস নেতারা সকলে তথ্যের অধিকার আইনে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন যারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন তাদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করুক রাজ্য সরকার। তাদের অভিযোগ বাংলা যত কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলা হয় কিংবা যতো মানুষকে ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়, তা যদি সত্যি হয় তাহলে পশ্চিমবঙ্গ স্বর্গরাজ্য হয়ে যায়।

এদিন রাজ্যপালও কিষান সম্মান প্রকল্প নিয়ে আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেছেন কুমিরের কান্না কাঁদলে কৃষকদের দুর্দশা ঘুচবে না। তার অভিযোগ রাজ্য সরকারের জন্যই প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি ৮৪ হাজার কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ৭০ লক্ষ কৃষক। তা নাহলে প্রত্যেক কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে ১২ হাজার টাকা জমা পড়ে যেত। রাজ্যপাল আরও বলেছেন এই প্রকল্পের পুরো খরচ বহন করে কেন্দ্র। ফলে এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে রাজ্য সরকারের ওপর বাড়তি চাপ পড়তো না। তাই রাজ্যের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন না করার কোনো কারণ থাকতে পারে না।

তবে কেন্দ্রকে দেওয়া এই চিঠির পেছনে কারণ হিসেবে অনেকেই মনে করছেন রাজ্য সরকারের কোষাগারে টান পড়েছে সম্ভবত। প্রকল্পের খরচ বহন করতে না পেরেই এবার রাজ্যে কেন্দ্রের প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here