লকডাউনে মুখ থুবড়ে পড়েছে পোশাক শিল্প, অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন উত্তর বেতপুল গ্রামের কয়েক হাজার কারিগর

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১ মে: চলছে রনজান মাস। সামনেই ঈদ, তারপর বাঙ্গালীর শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গা পুজো। আর এই সময় করোনার কারণে চলছে দেশ জুড়ে লকডাউন। এর ফলে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গা থানার উত্তর বেতপুল গ্রামের কয়েক হাজার শ্রমিক।

মূলত এরা পোশাক তৈরীর কারিগর। কলকাতার বড় বাজারের মহাজনদের কাছ থেকে কাঁচা মাল এনে গ্রামের মহিলা ও পুরুষ শ্রমিকদের দিয়ে সেলাই করিয়ে সেই পোষাক আবার কলকাতায় মহাজনদের হাতে তুলে দিতেন, বিনিময়ে মেলে পারিশ্রমিক। এই কারিগররা দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০ টাকা মজুরিতে কাজ করতেন কারখানায়। তৈরি হওয়া পোষাক প্যাকিং করে ট্রেনে অথবা ছোটো গাড়িতে করে পাঠানো হয় কলকাতায়। লকডাউন চলার কারণে কারখানা সব বন্ধ। সেলাই মেশিনে তৈরি পোশাক কলকাতায় পাঠানো যাচ্ছে না। জমা হয়ে আছে লক্ষ লক্ষ টাকার পোশাক। চলছে রোজার মাস, সামনেই ঈদ ও দুর্গা পুজো। অন্যান্য বছর এই সময় শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা থাকে চোখে পড়ার মতো। এবার যেন গ্রামে নেমেছে শোকের ছায়া। কিভাবে আগামী দিন খেয়ে পরে বেঁচে থাকবেন সেই চিন্তায় ঘুম উড়েছে শ্রমিকদের।

কারখানার মালিকরা কলকাতায় পোশাক বিক্রি না হাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারছেন না। এদিকে দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় উত্তর বেতপুল গ্রাম সহ আশপাশের কয়েকটা গ্রামের কয়েক হাজার শ্রমিক পড়েছেন মহা সমস্যায়। দেনার দায়ে জড়িয়ে পড়েছেন গ্রামের ছোটো ছোটো কারখানার মালিকরাও। গ্রামের অনেক মহিলা শ্রমিক বাড়ির কাজের অবসর সময়ে পোষাক তৈরীর কাজ করেন। এখন কাজ চলে যাওয়ায় চরম সংকটের মধ্যে রয়েছেন গ্রামের এই সমস্ত পোশাক শিল্পীরা। লকডাউনে তাদের ঠিকমতো খাওয়াও জুটছে না। এই অবস্থায় ছেলে মেয়েদের নিয়ে কি ভাবে সংসার চালাবেন সেই চিন্তাতেই দিশাহারা। বেকার ছেলেরা যারা ব্যাক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তুলেছিলেন এইসব সেলাই কারখানা তারাও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাহলে কি সব শেষ! দীর্ঘদিন না চলার ফলে অকেজো হয়ে যেতে পারে মেশিনগুলো। গ্রামের এই মানুষগুলো এখন চেয়ে রয়েছেন সরকারের দিকে। লকডাউন পরবর্তী সময়ে যদি কোনও সরকারি সাহায্য মেলে তবে হয়তো আবার উঠে দাঁড়াবে গ্রামীণ পোষাক শিল্প।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here