সত্তরোর্ধ প্রতিবন্ধী দম্পতির বিবাহ বার্ষিকী পালন হল সাড়ম্বরে

সত্তরোর্ধ প্রতিবন্ধী দম্পতির বিবাহ বার্ষিকী পালন হল সাড়ম্বরে

স্নেহাশিস মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৬ জুলাই:
শিবতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় পেশায় শিক্ষক। নেশা ছবি আঁকা ও সমাজ সেবা। যখন তার বয়স ২৫ বছর একটি আকস্মিক দুর্ঘটনায় ডান হাতটি বাদ যায়। তখন থেকেই তিনি স্থির করেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য কিছু একটা করবেন। কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশনে শিক্ষকতা করার সময় আলাপ হয় ছাত্রী কল্পনা মুখার্জির সাথে। কল্পনা দেবীও শ্রবণসংক্রান্ত প্রতিবন্ধী হওয়ায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা যুক্ত মানুষের সেবা করতে থাকেন কলকাতায়। ১৮৮২ সালে ঠিক এমনই একদিন জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন কল্পনা দেবী’কে।

নিঃসন্তান হওয়ার কারণে, শিক্ষাকতার অবসরে ফিরে আসেন দেশের বাড়ি শান্তিপুরে। একদিকে বয়সের ভার অন্যদিকে শারীরিক সমস্যা তাই ভর করতে হয় এক ভাতুষ্পুত্রর উপর। কিন্তু সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে একের পর এক নগদ অর্থ, জমির দলিল হাতিয়ে নেয় সে। উদভ্রান্ত হয়ে ছুটে যায় প্রশাসন, স্থানীয় বিধায়কের কাছে। স্থানীয় বিধায়ক শান্তিপুরের একটি প্রতিবন্ধী সংগঠনের উপর দায়িত্ব দেন। তারপর থেকে তিনি সানন্দে নব উদ্যমে তার বাড়িটি “প্রতিবন্ধী অফিস” সাইনবোর্ড লাগিয়ে সংগঠনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দিবা রাত্রি বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের ভাতা, লোন, জীবিকা স্বনির্ভর প্রকল্প, ছবি আঁকা, নাচ, গান সহ একটি স্কুল চালু করেন।

গতকাল ৭২ বছরের এই প্রৌঢ় তার স্ত্রী কল্পনা দেবীর ৩৭ বছরের বিবাহ বার্ষিকী পালন করলেন সংগঠনের ছেলেমেয়েরা। রীতিমত বেলুন ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়ে মালাবদল করে ৪৫ জন দুঃস্থ প্রতিবন্ধীদের নিমন্ত্রণ করে খাইয়ে ধুমধাম করে পালিত হল “বিবাহ বার্ষিকী”।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + 8 =