ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে তৃণমূল নেতাদের গণধোলাই

সুশান্ত ঘোষ, বারাসাত, ২৫ এপ্রিল: লকডাউনের মধ্যে দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে বিলি করার জন্য বরাদ্দ চাল চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার মত ঘৃন্য অভিযোগ উঠল তৃণমূলের চার নেতার বিরুদ্ধে। আর সেই অভিযোগে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে অভিযুক্ত চার নেতাদেরকে গণধোলাই দিল সাধারন মানুষ। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা শাসন থানার মজলিসপুর বাজারের ২৩ নম্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। ঘটনাকে কেন্দ্রকরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খবর পেয়ে শাসন থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী তথা উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না। তিনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তবে থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে।

করোনা আবহে দেশ তথা রাজ্য জুড়ে লকডাউন চলছে। ফলে মানুষ কর্মহীন থাকায় অর্থহীন হয়ে পড়েছে। মানুষের ভাড়াড়ে টান পরেছে। তাদের কথা মাথায় রেখে দুস্থ মানুষদের সাহায্যার্থে ত্রাণের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে দুস্থ গ্রামবাসীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত ২ নম্বর ব্লকের শাসন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চার তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রাম কমিটির সভাপতি আবদুল আজিজ ধুকড়ে, সহ সভাপতি ফকির আহমেদ মাষ্টার, সম্পাদক কেনারাম মল্লিক ও কোষাধ্যক্ষ জুম্মান আলি বৈদ্য এই চার জন দুস্থ মানুষদের জন্য বরাদ্দ চাল চুরি করে বিক্রি করেছেন।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অঞ্চল কমিটির সভাপতি সৈদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ২২ জন ইটভাটা মালিকের প্রত্যেকের থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা করে দান নেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও ভেরি মালিক ও কারখানার মালিকের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা হয় গরিব মানুষদের চাল-ডাল কিনে দেবার জন্য। সেই টাকায় কেনা খাদ্যসামগ্রী অঞ্চল স্তর থেকে গ্রাম কমিটিতে পাঠানো হয়। অভিযোগ গত ১৬ এপ্রিল সেই খাদ্যসামগ্রী কিছু দুস্থ মানুষদের মধ্যে দেওয়া হলেও প্রায় ৫০ হাজার টাকার চাল ওই চারজন আত্মসাৎ করে। সেই ক্ষোভেরই প্রকাশ হয় শনিবার সকাল থেকে।

দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয় বেশ কয়েকটি অঞ্চলে। পরে মজলিসপুর বাজারের পার্টি অফিস ঘেরাও করে। সেখানেই ওই চার অভিযুক্তকে গণধোলাই দেয় এলাকার কয়েকশো মানুষ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় শাসন থানার পুলিশ। এরপর পুলিশকে ঘিরে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই চারজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এলাকার মানুষের দাবি, অভিযুক্তরা তাদের অভিযোগ স্বীকার করেছে। এবং তারা জানিয়েছেন ওই টাকার চাল কিনে দুস্থ মানুষদের মধ্যে বন্টন করবেন। যদিও এই চার জনই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here