স্বমহিমায় রাঢ়বঙ্গের আদিবাসী মহিলাদের চাটাই শিল্প

আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ৩ মে: রাঢ়বঙ্গে আদিবাসী মহিলাদের গ্রামীণ চাটাই শিল্প আজও স্বমহিমায় অটুট৷ দৈনন্দিন পারিবারিক কাজকর্মের মধ্যেও নিজেদের প্রয়োজনে খেজুর পাতা দিয়ে তারা চাটাই বুনে চলেছেন। বিভিন্ন রং ও নকশায় সেগুলি সুদৃশ্য করে তুলছেন। আঞ্চলিকভাবে তারা খেজুর পাতার এই চাটাইকে তালাই বা তালোই বলেন। রাঢ়বঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় চাটাই শিল্পের বিস্তার লক্ষ্য করা যায়।

এই শিল্পের প্রধান উপাদান খেজুর গাছের পাতা। তবে  জঙ্গলের রাসড়া গাছের পাতা এবং তাল গাছের পাতা থেকেও চাটাই তৈরি হয়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে চাটাই তৈরি হওয়ায় প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্কও গড়ে ওঠে। পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি, নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, লালগড়,  বেলপাহাড়ি, মেদিনীপুর সদর, গড়বেতা ও শালবনী ব্লকের প্রায় সমস্ত আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে এই চাটাই তৈরি হয়। কিছু কিছু গ্রামের আদিবাসী মহিলারা এই চাটাই শিল্পকে তাদের মূল জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। শালবনি ব্লকের বাগমারি, সিধাডিহি, ভূগলুশোল, বালিজুড়ি সহ ১০-১২টি গ্রামের মহিলারা এই শিল্পের সঙ্গে তাদের মূল জীবিকাকে জড়িয়ে রেখেছেন।

বর্তমানে লকডাউনের জেরে এই শিল্পেও খানিকটা ব্যাঘাত ঘটছে। গ্রাম্য মানুষের এই শিল্পেও ভাটা পড়েছে। এছাড়া লকডাউন পর্বে জঙ্গলে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পাতা সংগ্রহ করতে পারছেন না গ্রামীণ মহিলারা। আদিবাসীদের অনেক পরিবারের মহিলারা এই চাটাই হাট বাজারে এবং গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রি করেন। লকডাউনে গ্রামীণ হাট বাজার বন্ধ থাকায় কিছুটা অসুবিধার মুখে পড়েছেন তারা। ডিহি গ্রামের লক্ষ্মী মান্ডি জানিয়েছেন, চাটাই তৈরি করেই তারা সংসার চালান কিন্তু লকডাউনের ফলে তাঁরা বেশ অসুবিধায় পড়েছেন।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ নেপাল সিংহ বলেন, করোনা আতঙ্কে লকডাউনের সময় বনদপ্তর গ্রামবাসীদের জঙ্গলে যেতে নিষেধ করায় এলাকার মহিলারা চাটাই শিল্পের জন্য খেজুর রাসড়া ও তালপাতা সংগ্রহ করতে পারছেন না। এর ফলে তারা সাময়িক অসুবিধায় পড়েছেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here