রাম মন্দির নির্মাণ শুরুর পর এবার কৃষ্ণ জন্মভূমি মামলা পৌঁছালো আদালতে, ইদগাহ মসজিদ সরানোর দাবি

আমাদের ভারত, ২৬ সেপ্টেম্বর: “অযোধ্যা তো ঝাঁকি হ্যায়, মথুরা কাশী আভি বাকি হ্যায়” রাম মন্দির নির্মাণের রায় ঘোষণার পরপরই উঠেছিল এই স্লোগান। এবার সেই স্লোগান কার্যকর হতে চলেছে।
অযোধ্যার পর এবার মথুরার শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমির মামলাও আদালতে পৌঁছালো। শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান মথুরার আদালতে একটি সিভিল কেস দায়ের করে ১৩.৩৭ একর কৃষ্ণ জন্মভুমির অধিকারের দাবি জানিয়েছে এবং শাহী ইদগাহ মসজিদ সরানোর দাবিও করেছে।

ঠিক অযোধ্যায় যেপথে জয় পেয়ে রামলালা বিরাজমান, একই পথে হেঁটে মথুরাতেও শ্রীকৃষ্ণ হাজির হলেন আদালতে। মামলা দায়ের করে শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান তার জন্মভূমি দখলমুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে। দায়ের হওয়া মামলায় শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি ১৩.৩৭ একর জমির অধিকার চাওয়া হয়েছে। ওই জমিতে মুঘল আমলে তৈরি হওয়া শাহি ইদগাহ মসজিদ সরিয়ে দেওয়ার দাবিও করেছেন মামলাকারিরা। মথুরার সিনিয়র ডিভিশনের সিভিল জর্জ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান, কাটরা কেশব দেব খেবট, মথুরা মৌজা বাজার শহরের পক্ষের আইনজীবী রঞ্জনা অগ্নিহোত্রী এবং আরো ছয় ভক্ত।

এই মামলাটি করা হয়েছে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও শাহি ইদগাহ ট্রাস্টের পরিচালন সমিতির কমিটির বিরুদ্ধে। শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থানে শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমানের জমি জবর দখল করে নিয়েছে শাহি ইদগাহ ট্রাস্ট। মামলা দায়ের করে দাবি করা হয়েছে যে ইদগাহতে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সেই কাঠামোর নিচে রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান। আরোও অভিযোগ শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান সেবা সংস্থান অবৈধভাবে এই বিষয়টির সঙ্গে আপস করেছে। অভিযোগ করা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমান ভক্তদের স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করেছে শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান সেবা সংস্থান। শাহি ইদগাহ ট্রাস্টের পরিচালন সমিতির কমিটি সঙ্গে জালিয়াতি করে ১৯৬৮ সালে দেবতা এবং ট্রাস্টের সম্পত্তির ভালো রকম অংশে আপোষ করেছে তারা।

১৯৯১ সালের “প্লেসেস অফ ওয়ার্শিপ অ্যাক্ট” নামে আইন অনুযায়ী এই মামলা দায়ের হয়েছে। এই আইনে যে স্থানে যে ধর্মীয় উপাসনা চলত বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও তার কোনো পরিবর্তন হবে না। এই আইনেই বিতর্কিত রাম জন্মভূমি বাবরি মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে এবং রাম মন্দির তৈরীর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মথুরা কাশি সহ একাধিক আদালতে কৃষ্ণ জন্মভূমির বিতর্কিত এই মামলা খারিজ করে দেওয়া হলেও সম্প্রতি প্রয়াগরাজ আখড়া পরিষদের বৈঠকে সাধু-সন্তরা মথুরা কৃষ্ণ জন্মভুমি ও কাশী বিশ্বনাথ মন্দির নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। এরপরই শুরু হয় তোড়জোড়। শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণ জন্ম ভূমির অধিকার ও মসজিদ সরিয়ে ফেলার দাবিতে মামলা দায়ের করা হলো মথুরা আদালতে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের ভূমির পুজোর অন্যতম ছিলেন বৃন্দাবনের মুখ্য পন্ডিত গঙ্গাধর পাঠক। পুজোর সময়েই প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, বারানসির কাশি বিশ্বনাথ এবং মথুরার শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমিকেও এবার মুক্ত করা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here