করোনা পরিস্থিতির কারণে আগামীতে দেশজুড়ে আকাল হতে পারে খাবার লবণের, আশঙ্কা উৎপাদকদের

আমাদের ভারত, ১৬ এপ্রিল: দুদিন আগেই দেশের দ্বিতীয় দফায় লকডাউন বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তারপর থেকে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলি আগের মতই পাওয়া যাবে তো? তবে ছয় মাসে দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছে সরকার। কিন্তু খাদ্য লবণের ক্ষেত্রে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন স্বয়ং উৎপাদকরা। তাদের আশঙ্কা আগামীদিনের খাদ্য লবণের ভয়াবহ আকাল দেখা দিতে পারে দেশে। স্তব্ধ হতে পারেন লবণ রপ্তানির কাজ।

জানা গেছে প্রধানমন্ত্রী সহ পাঁচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে গত ২৮মার্চ ইন্ডিয়ান সল্ট অ্যসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখানেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সল্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন দেশে লবণ উৎপাদনের এটা মরসুম। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত মূলত লবণ উৎপাদন হয়। এরপর বর্ষা নেমে গেলে আর লবণ উৎপাদন করা সম্ভব নয়। লকডাউনের ফলে মার্চ মাসের শেষটা এবং এপ্রিল মাসের পুরোটাই যেতে বসেছে। এই পরিস্থিতিতে যদি কাজ না শুরু হয় তাহলে খাদ্য লবণের আকাল তৈরি হতে পারে দেশজুড়ে।

প্রতিবছর ৯৫ লক্ষ মেট্রিক টন লবণ দরকার ভারতে। অ্যালকালি জাতীয় কারখানায় লবন লাগে ১ কোটি মেট্রিক টন। ভারত লবণ রপ্তানি করে কমবেশি ৫৮হাজার মেট্রিক টন। সল্ট অ্যসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে লবণ তৈরির কারখানা গুলিতে ৭০% কাজ চালানো হয় অসংগঠিত শ্রমিকদের দিয়ে। কিন্তু লকডাউন এর কারণে তালা পড়েছে সংস্থা গুলিতে। দেশের অন্যতম নুন প্রস্তুতকারক রাজ্য গুজরাটেও কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ। আর সেই কারণেই ব্যপক লবণের আকালের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here