করোনার ওষুধ! মৃদু-মাঝারি রোগীদের অ্যান্টি রেট্রোভিয়াল ওষুধ, ফ্যাবিপিরাভিরে প্রয়োগের অনুমতি দিল ড্রাগ কন্ট্রোল

আমাদের ভারত,২০ জুন: জরুরী ভিত্তিতে করোনা রোগীর ওপর অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধ ফ্যাবিপিরাভিরে প্রয়োগ করা যাবে, অনুমোদন দিয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোল। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক করণা রোগীর ওপরে আপাতত এই ওষুধ থেরাপি করা যাবে। গাইডলাইনে ড্রাগ কন্ট্রোলের তরফে জানানো হয়েছে করোনা সংক্রমণ যদি মৃদু বা মাঝারি হয় তবে নির্দিষ্ট পরিমাণে এই ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে।

চিন জাপান ইতালিতে করোনা থেকে সুস্থ হবার ট্রায়ালে ফ্যাভিপিরাভিরের রিপোর্ট অপেক্ষাকৃত ভালো। আর সেই জন্যেই ভারতেও এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করেছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ এবং সরকারি সংস্থা সেন্টার ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ।

করোনা থেরাপির সলিডারিটি ট্রায়ালে ফ্যাভিপিরাভিরের প্রয়োগ সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

মুম্বাইয়ের গ্লেনমার্ক ফার্মেসিউটিক্যালস এই ওষুধের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল করেছে। সেই রিপোর্ট সন্তোষজনক। আর সেই জন্যেই করোনা চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে ফ্যাভিপিরাভির প্রয়োগ করার অনুমোদন দিল ড্রাগ কন্ট্রোল।

এই ফ্যাভিপিরাভির অ্যান্টি রেট্রোভিয়াল ড্রাগ। আর এন এ ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়ার ক্ষমতাকে আটকে দিতে পারে এটি। আর এন এ ভাইরাস তাদের সংক্রামক ভাইরাল প্রোটিন মানুষের দেহ কোষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। সার্স কভ-২ ভাইরাসের সংক্রামক আর এন স্ট্রেন কোষের ACE2 রেসপিরেটরের মাধ্যমে ভিতরে ঢুকে বিভাজিত হতে শুরু করে। আর এই বিভাজন প্রক্রিয়াকেই থামিয়ে দেবে অ্যান্টি রেট্রোভাইরাল ওষুধ।

জাপানের ফুজিফিলম টোয়ামা ক্যামিকেলস এই ওষুধ তৈরি করেছে। এই ড্রাগের ব্র্যান্ড নাম হল “অ্যাভিগান”।

২০১৪- ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মারাত্মক প্রকোপের সময় এই ওষুধ তৈরি করেছিল জাপানের এই ফার্মাসিটিক্যাল সংস্থা। ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধ ছাড়াও হলুদ জ্বর, হাত ও পায়ের যে কোন ভাইরাল ইনফেকশন কমাতে পারে এই ওষুধ। বেশ কিছু দেশে করোনা মোকাবিলায় সম্ভাব্য ঔষধ হিসেবে পরীক্ষা হয়েছে এটির এবং তাতে ইতিবাচক ফল মিলেছে। আইসিএমআর এর উদ্যোগে ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করে ভারতে। করণা রোগীদের ১৪ দিনের ফ্যাভিপিরাভির থেরাপি করা হয়। সংক্রমণ যদি মাঝারি হয় তাহলে প্রথম ৩ দিন ৩৬০০০ মিলিগ্রাম ওষুধের ডোজ দেওয়া হবে। এরপর থেকে ১৪ দিন ১৬০০ মিলিগ্রাম করে ওষুধের ডোজ দেওয়া হবে। তবে সংক্রমণ কতটা তা শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে ডোজের মাত্রা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here