কলকাতা ও শহরতলি রাজ্য

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ব্যর্থ, মাদ্রাসা শিক্ষকদের সমান বেতনের দাবিতে অবস্থান প্রাথমিক শিক্ষকদের

তারক ভট্টাচার্য

আমাদের ভারত, ৭ নভেম্বর: গ্রেড পে বাড়ালেও পে ব্যান্ড বদলায়নি রাজ্য সরকার। যার ওপর ভিত্তি করে বেতনের বেসিক বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, তা বদলায়নি। গ্রেড পে-ও বাড়িয়েছে নামমাত্র ৩০০ টাকা। এই সব অভিযোগে বুধবার থেকে ফের অবস্থানে বসেছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান বিক্ষোভে যাদবপুর-গড়িয়া সড়ক যোগাযোগ কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনরত শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘেরাও করার কর্মসূচি নিয়েছিলেন। কিন্তু, পুলিশ মিছিল আটকে দেয়। বাধা পেয়ে বাঘাযতীন মোড়েই বসে পড়েন শিক্ষকরা। শুরু করেন অবস্থান।

এর পর শিক্ষামন্ত্রী, আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হন। এক শিক্ষক প্রতিনিধিদল যায় শিক্ষামন্ত্রীর বাড়িতে। বৈঠকও হয়। কিন্তু, সেই বৈঠকে সমাধানসূত্র মেলেনি। ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী বৈঠক শেষে বলেন, ‘রাস্তায় বসে পড়া কখনও দাবি আদায়ের পথ হতে পারে না। দাবিতে যুক্তি থাকলে সরকার শুনবে। কিন্তু, সেই যুক্তি সঠিক জায়গায় তুলে ধরতে হবে।’ পালটা, আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানিয়ে দেন, দাবি পূরণ না-হওয়া পর্যন্ত তাঁরা পথেই থাকবেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর শিক্ষক প্রতিনিধিরা, রাস্তা থেকে তাঁদের অবস্থান লাগোয়া পার্কে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জুলাই মাসে দীর্ঘ অনশনের পর সরকার তাঁদের দাবি মেনে নিয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষকরা মনে করেছিলেন, তাঁরা বড় জয় পেয়েছেন। তাঁরা মাদ্রাসা শিক্ষকদের সমান বেতন পাবেন। কিন্তু, পরবর্তীতে এই ব্যাপারে সরকারি ঘোষণা এবং বাস্তব পরিস্থিতি প্রাথমিক শিক্ষকদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তাঁদের ধারণা ভুল ছিল। তার পরই প্রাথমিক শিক্ষকরা শিক্ষা দফতরের কর্তাদের এবং শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু, তাতে দাবির সুরাহা না-হওয়ায় তাঁরা ফের আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেই আন্দোলনকারী প্রাথমিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন।

Leave a Comment

13 − five =

Welcome To Amaderbharat. We would like to keep you updated with the Latest News.