মছলন্দপুর পঞ্চায়েতে আমফানের ত্রাণ পেল তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সহ আত্মীয়রা, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের স্মারকলিপি ফাঁড়িতে

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ৫ জুলাই : গোবরডাঙ্গায় আমফান ঝড়ের ত্রাণ পেল পঞ্চায়েত সদস্য সহ তাঁদের আত্মীয়রা। এমনই অভিযোগ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের। প্রতিবাদ করতে পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি গেলে, বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। ছোট জাত বলে তাদের ১০ বছরের শিশুকে ছুঁড়ে ফেলা দেওয়ায় অভিযোগ এলাকার ব্লক সভাপতি অজিত সাহা ও তার দলবলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগণার গোবরডাঙ্গা ১নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের। রবিবার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা ফেরতের দাবি ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক মূল্যায়ণ করে মছলন্দপুর ফাঁড়িতে স্মারকলিপি জমা দেয় বিজেপি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, মছলন্দপুর ১নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট সদস্য ২৭ জন। এর মধ্যে বিজেপি ১ বাকি তৃণমূল সদস্য। আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭০৪ জনের টাকার তালিকা আসে। এর মধ্যে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সহ তাদের আত্মীয় ও সমর্থক ১৩০০ জন টাকা পেয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। বাকি ৪০৪ জনের মধ্যে এখনও অনেকেই টাকা পায়নি বলে জানিয়েছেন মছলন্দপুর নাগরিক কমিটির আহবাহক অরূপ বাকচি। তিনি বলেন, বেছে বেছে তৃণমূল সদস্য সহ তাদের ঘনিষ্ঠদের ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া হয়েছে, তার তালিকা আমরা সংগ্রহ করেছি। তৃণমূল সদস্য নিলিমা মল্লিক তাঁর ছেলে সুখেন মল্লিক ত্রাণের টাকা পেছেন, তৃণমূল সদস্য সৌমেন বিশ্বাস তাঁর স্ত্রী বাসন্তী বিশ্বাস ও তাঁর শ্যালিকা মৌসুমি সিংহ বনগাঁর বাসিন্দা তিনিও টাকা পেছেন। তৃণমূল সদস্য বীনা সরকার, রানীডাঙ্গার বাসিন্দা, তার স্বামী পরেশ সরকার, দেওর কৃষ্ণচন্দ্র সরকার, ভাইপো সুব্রত সরকার, বাবা বিকাশ সরকার, কাকা রবিন বিশ্বাস, ভাইপো লাল্টু বিশ্বাস, পরিবারের সকলেই তারা টাকা পেয়েছেন। তৃণমূল সদস্য শ্যামলী নন্দী, নিমতলার বাসিন্দা তার স্বামী জয়ন্ত নন্দী ও ঘনিষ্ঠ গৌতম মিস্ত্রী ত্রাণের টাকা পেয়েছেন। তৃণমূল সদস্য অজয় বিশ্বাস তার স্ত্রীর নামে ত্রাণের টাকা পেয়েছেন। শঙ্কর সাহা তিনি নিজের নামেই টাকা তুলেছেন। এছাড়াও তৃণমূল সমর্থক, যাদের দোতলা এসি লাগানো বাড়িতে, যাদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি হয়নি তারাও আমফানের ক্ষতিপূরণের টাকা পেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার বিজেপি নেতা সত্যজিৎ মল্লিক।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মছলন্দপুর তৃণমূল নেতৃত্ব। অভিযোগ পাওয়ার পর মছলন্দপুর ফাঁড়ির আধিকারিক তদন্তের আশ্বাস দেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here