পূর্ববঙ্গে হিন্দুদের স্মৃতি (৩৬) ‘এই বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ পরিচালনা করতেন’

আমাদের ভারত, ২৫ নভেম্বর:
পোদ্দার বাড়ি: বাড়িটি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় অবস্থিত। আনুমানিক ১৯ শতকের শেষের দিকে ৫২ শতাংশ জমির উপর এই বাড়িটি নির্মিত। বাড়িটি খুবই কারুকার্যময় ও নজরকাড়া নকশায় নির্মিত হয়েছিল। এর প্রকৃত মালিক ছিলেন অখিল পোদ্দার। তিনি একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ছিলেন।

১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্থান যুদ্ধের সময় অখিল পোদ্দার এই দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। তারপর থেকে এই বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালে ম্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে অখিল পোদ্দারের পরিত্যক্ত এই বাড়িটি দোহার ও নবাবগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ এবং মনিকগঞ্জের জেলার হরিরামপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা এই বাড়িতে অবস্থান করতেন।

মূলত এখান থেকেই ওই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা ও যুদ্ধ পরিচালনা করতেন। স্থানটি অপর দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা সহজে আসা-যাওয়া করতে পারত। স্বাধীনতার পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা বাড়িটিকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘর ঘোষণা করে।

কিন্তু, পরবর্তী সময়ে ইকরাশী গ্রামের আনোয়ার খান মেম্বার এই বাড়িটি লিজ নেন। দীর্ঘদিন তিনি বাড়িটি ভোগ-দখল করেন। ২০১২ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের আবেদনের ভিত্তিতে তৎকালীন দোহার উপজেলা প্রশাসন এই বাড়িটিকে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘর করার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসন লিজ বাতিল করে বাড়ি ও জমি দখলমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করেন। সে অনুযায়ী অখিল পোদ্দারের বাড়িটি মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘরের নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিনত হয়।

দীর্ঘ ৪৯ বছর যাবৎ এই বাড়িটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে ছিল। দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় বাড়িটি ২০২০ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিণত হয়। ২০২২ সালে সরকারী অর্থায়নে বাড়িটির সংস্কার কার্যক্রম শেষ হয়। এভাবেই একসময়ের দৃষ্টি নন্দন বাড়িটি পুনরায় তার আদি রূপে ফিরে এসেছে।

লেখা— মাহমুদ আলি
সূত্র— ঢাকা জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ভ্রমণের তারিখঃ ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২ সঙ্কলন— অশোক সেনগুপ্ত।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here