পূর্ববঙ্গে হিন্দুদের স্মৃতি (৫৪) ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল

আমাদের ভারত, ২১ জানুয়ারি: তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের প্রথম সরকারি এবং একমাত্র ইংলিশ স্কুলটি আজও সুনামের সাথে টিকে আছে….। “গোল মোটা রোমক থামওয়ালা উন্নতশির অট্টালিকা… সিঁড়ি, মেঝে, বারান্দা সব তকতকে পরিষ্কার; ক্লাসরুমগুলোতে আলো-হাওয়া প্রচুর খেলে, কিন্তু কম্পাউন্ড পেরিয়ে গাড়ি-ঘোড়ার শব্দ লেশমাত্র পৌঁছায় না।’’ ‘আমার ছেলেবেলা’ বইতে সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু এভাবেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলের বর্ণনা দিয়েছেন।

ফেলুদার বাবা জয়কৃষ্ণ মিত্র ছিলেন এই স্কুলের অঙ্ক ও সংস্কৃতর শিক্ষক। এই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পা পড়েছে বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু, বিজ্ঞানী মেঘনাথ সাহা, বিপ্লবী দিনেশ গুপ্ত, সাহিত্যিক বুদ্ধদেব বসু, বাংলা একাডেমীর সভাপতি তথা জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, চলচ্চিত্র পরিচালক, শিবলী সাদিক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ মতিউর রহমান (বীর শ্রেষ্ঠ), ভাষাবিদ ও শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী, আলমগীর কবির, সতীশ চন্দ্র রায়, চলচ্চিত্র পরিচালক খান আতাউর রহমান, প্রাক্তন উপাচার্য (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) ও ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার প্রমুখের।

১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ তথা অখণ্ড ভারতের প্রথম সরকারি স্কুল হিসেবে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ভারতীয়দের মধ্যে প্রথম প্রধান শিক্ষকের পদ অর্জনের গৌরব লাভ করেন বাবু কৈলাস চন্দ্র ঘোষ। পরে বাবু রায়সাহেব রত্ন মণি গুপ্তের (১৮৮৮-১৮৯৬) পরিচালনাধীনে এ বিদ্যালয়ের ছাত্রগণ পরপর আট বছর বাংলা, বিহার ও অসম প্রদেশের মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম স্থান অধিকার করার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ১৮৮ বছরে পা রাখা প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ঢাকার সদরঘাটে ১ নম্বর লয়াল স্ট্রিটে।

লেখা— মহম্মদ সফিউল ইসলাম, উইকিপিডিয়া।
সূত্র— পুরনো কলকাতার গল্প ফেসবুক গ্রুপ।
সঙ্কলন— অশোক সেনগুপ্ত।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here