মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য বড় ঘোষণা ! ইএমআই-র সুদের টাকা মিটিয়ে দেবে মোদী সরকার

আমাদের ভারত, ৩ অক্টোবর: করোনা মোকাবিলায় লকডাউনের কারণে নির্দিষ্ট মেয়াদি ঋণ বা টার্ম লোনের ওপর ছয় মাসের জন্য মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করেছিল রিজার্ভ ব্যাংক। অর্থাৎ ছয় মাস গৃহঋণ, শিক্ষাঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ঋণ অথবা ইএমআই দেওয়া স্থগিত রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আজ সুপ্রিম কোর্টে মোদী সরকার জানিয়ে দিলো দু’কোটি পর্যন্ত ঋণের জন্য মোরাটোরিয়ামের মেয়াদের ইএমআই ওপর যে সুদ বকেয়া হয়েছে তা গ্রাহককে আর দিতে হবে না। সরকার সেই সুদের খরচ বহন করবে।

স্বভাবতই সরকারের এই পদক্ষেপে উপকৃত হবে মধ্যবিত্ত শ্রেণী। কারণ গৃহঋণ, শিক্ষাঋণ, গাড়ি কেনার জন্য ঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া, বা ইলেকট্রনিক জিনিস কেনার জন্য ইএমআইয়ের সব ক্ষেত্রেই এই ছাড় পাবে সাধারণ মানুষ। এছাড়াও এতে আর্থিক সুবিধা হবে সেইসব ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থায় যারা ব্যাংক থেকে ২ কোটি টাকা বা তার কম ঋণ নিয়েছে।

করোনার জন্য আর্থিক সংকট শুরু হতেই নির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের ওপর মোরাটোরিয়াম ঘোষণা করেছিল রিজার্ভ ব্যাংক। বলা হয়েছিল কোন গ্রাহক যদি চায় তাহলে তিন মাস ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা স্থগিত রাখতে পারে। মোরাটরিয়ামের মেয়াদ পরে আরও তিন মাস বাড়ানো হয়। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত বা বেসরকারি ব্যাংক গুলি গ্রাহকদের জানিয়েছিল কিস্তির টাকা দেওয়া বন্ধ করলে বকেয়া আসল ও সুদ বাবদ যে টাকা বকেয়া তার ওপর আবার সুদ দিতে হবে।

অর্থাৎ কারও ইএমআই যদি ১০ হাজার টাকা হয়ে থাকে, তাহলে ওই কিস্তির আসল ৪০০০ টাকা সুদ ৬০০০ টাকা। ব্যাঙ্কগুলি জানিয়েছিল আসল তো গ্রাহককে ফেরত দিতেই হবে। একইসঙ্গে ছমাসের যে টাকা সুদ বকেয়া হয়েছে তার উপরেও আবার সুদ দিতে হবে। অর্থাৎ সুদ বাবদ যে ৩৬,০০০ টাকা বকেয়া তার উপর দিতে হবে গ্রাহকদের আবার সুদ দিতে হবে। এই ঘোষণার পরই হইচই পড়ে যায়। মধ্যবিত্ত বলে সুরাহার বদলে তারা তাদের সংকট আরও বেড়েছে। এর চেয়ে কষ্ট করে হলেও ইএমআই দেওয়া অনেক ভালো।

ব্যাঙ্কগুলির এই অবস্থানের বিরোধিতা করে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। এই বিষয়ে২৮ সেপ্টেম্বর সরকারের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেদিন কেন্দ্রীয় সরকারকে এর জন্য আরো সাতদিন সময় দেয়। বিচারপতিরা বলেন করোনা পরিস্থিতি ঋণ গ্রাহকদের সুরাহা দেওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সাত দিনের মধ্যে পরিকল্পনা পেশ করতে হবে মোদী সরকারকে। সেই মোতাবেক শুক্রবার সরকার সুপ্রিমকোর্টে জানিয়ে দেয়, যে গ্রাহকদের বকেয়া সুদের উপর সুদ আর দিতে হবে না।

সরকার জানিয়েছে, মহামারী পরিস্থিতিতে এটাই একমাত্র সুরাহার রাস্তা। সরকার যদি এই খরচ বহন করে তাহলে সবদিক বাঁচবে। সুদের ওপর যে সুদ জমা হয়েছে তার সামগ্রিক পরিমাণ ১৬ কোটি টাকা। ব্যাংককে যদি সেই খরচ বহন করতে বলা হয় তাহলে নেটওয়ার্থের একটা বড় অংশ চলে যাবে। বিপন্ন হবে ব্যাংক গুলি। এতে ঘুরিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে।তাই দু’কোটি টাকা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট মেয়াদের ঋণের সুদের উপর যে সুদ হবে সেই টাকা সরকার দেবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here