মোদী-শাহ এক সুর ! দেশকে আবার পথ দেখাবে বাংলা

শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ১১ জুন : দুদিন আগে বাংলার জন্য ২য় মোদী সরকারের বর্ষপূর্তি সভা থেকে কার্যত ২১-র নির্বাচনের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেদিন তার বক্তব্যে উঠে এসেছিল “বাংলা যা আজ ভাবে ভারত তা কাল ভাবে”…. বাঙালির এই চিরপরিচিত গর্বের প্রবাদ। আর আজ আবার সেই প্রবাদটিই শোনা গেল প্রধানমন্ত্রীর গলাতেও। ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স তথা আইসিসির ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় এদিন বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি,অতীতের মতো দেশের অর্থনীতিতে কলকাতা ফের পথ দেখাবে”। দুটি ভিন্ন ধর্মী সভা হলেও দুজনের টার্গেট যে আগামী ২১-র নির্বাচন সে ব্যপারে নিশ্চিত অধিকাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকই। আর সেই কারণেই হয়তো দুজনের বক্তব্যেই এই প্রবাদটির ঠাঁই হয়েছে।

আইসিসির এ জিএম এবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেই ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তৃতার একটা বড় অংশ ছিল বাংলা সহ পূর্ব ও উত্তর পূর্ব ভারতের শিল্পের সম্ভাবনাময় দিকের কথা। মোদী এদিন আত্মনির্ভর ভারত গড়ার কথা উল্লেখ করে বলেন,” আমি বিশ্বাস করি আগের মত আবার কলকাতা দেশকে পথ দেখাতে পারবে। বাংলা আজ যা ভাবে গোটা দেশ কাল যা ভাবে,এই প্রবাদ আবারো বাস্তবে পরিণত হতে পারে।” ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বাংলাকে গুরুত্ব দেওয়ার দিকটি উঠে এসেছে আজ মোদীর বক্তব্যে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের সভা কলকাতায় হচ্ছে যেমন, তেমনি একুশের ভোটও অন্যতম লক্ষ্য বিজেপির। তাইতো কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অমিত শাহের ভার্চুয়াল সভা আর মোদীর শিল্পপতি দের উদ্দেশ্যে করা ভার্চুয়াল সভার অন্যতম প্রসঙ্গ বাংলা আজ যা ভাবে ভারত তা কাল ভাবে। যদিও মোদীর এদিনের বক্তব্যে কোথাও কোনো রাজনৈতিক বিষয় উঠে আসেনি। শুধু তিনি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

জলপথ পরিবহন থেকে পাটশিল্প সম্ভাবনার কথাই এদিন তার বক্তৃতায় উঠে এসেছে। বাংলার পাট শিল্পকে আরো দৃঢ় করার কথা বলেছেন তিনি। তার কথায়, দেশের সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এর ফলে বাংলার পাটের তৈরি ব্যাগ দেশের মানুষের হাতে হাতে ঘুরবে। এটা গর্বের বিষয়। বারানসি কলকাতা জলপথ পরিবহন এর কথা তুলে তিনি বলেন, “আমার কেন্দ্রের সঙ্গে কলকাতার জলপথে যোগাযোগ রয়েছে। জলপথ পরিবহন দূষণের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। খরচেও কম। ”

তবে কলকাতা তথা বাংলা কে প্রাধান্য দেওয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী, বলেছেন, “দেশ এই মুহূর্তে বহুমুখী সংকটের মধ্যে দিয়ে চলেছে। করোনারি মত মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পঙ্গপালের হানা, অসমের তৈল ক্ষেত্রের অগ্নিকাণ্ড। একের পর এক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে দেশ। তবুও এই সংকটকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে আমাদের এগোতে হবে। আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে দেশ কেউ আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে।”

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here