“দেশের কৃষকদের হাত পা বাঁধা ছিল এতদিন, কৃষি বিল এনে তাদের মুক্তি দিলো বিজেপি সরকার”

আমাদের ভারত, ২১ সেপ্টেম্বর: এতদিন দেশের কৃষকদের হাত-পা বাঁধা ছিল। সেই বন্ধন থেকে মুক্তি দিতে কৃষি সংস্কারের পথে হেঁটেছে সরকার। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিহারের ৯ লেন হাইওয়ের শিলান্যাস করতে গিয়ে কৃষি বিল নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিলেন নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এইসব বিলের ফলে এবার থেকে চাষীদের কষ্টার্জিত ফসল নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো জায়গায় বিক্রি করতে পারবেন। কিষান মান্ডিতে শস্য পণ্যের দাম না পেলেও যেকোনো জায়গায় শস্য বিক্রি করার স্বাধীনতা চাষীদের দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মোদীর আশ্বাস, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আগে যেমন ছিল এখনোও তেমনই থাকবে। এই বিল দেশের কৃষি ব্যবস্থার পরিপন্থী নয়।

কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দিতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদাহরণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন করোনা আবহেও কৃষকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি গম কেনা হয়েছে। প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তিনিও মোদীর সুরে সুর মিলিয়ে বলেন সংসদে কৃষি বিল পাস হওয়ায় উপকৃত হবেন কৃষকরা। নীতিশের কথায় স্পষ্ট মোদীর কৃষি সংস্কারকে হাতিয়ার করেই তারা এবার ভোট ময়দানে নামতে চলেছেন।

মোদী আরোও বলেছেন, “আমাদের দেশ যাতে একুশ শতকের উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারে সে জন্যই নতুন কৃষি আইনের প্রয়োজন ছিল। যারা ঐ আইন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছেন তারা কৃষকদের মিথ্যে কথা বলে উত্তেজিত করতে চাইছেন। তারা ভাবছেন এই আইনের কারণে তাদের হাতে আর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।” প্রধানমন্ত্রীর কথায় আচমকাই অনেকে নতুন আইন নিয়ে নানা সমস্যার কথা বলছেন, প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কৃষি মান্ডি গুলির কি হবে? মোদী আশ্বাস দেন মান্ডি গুলি কখনোই বন্ধ হবে না। তিনি বলেন, “আমি পরিষ্কার বলতে চাই, নতুন আইন কৃষি মান্ডি কখনোই তুলে দিতে চায় না। সেখানে যেভাবে আগে কাজ হতো ভবিষ্যতেও তাই হবে। বরং আমাদের সরকার কৃষি মান্ডিগুলির আরো উন্নতি করবে। যারা বলছে এই নতুন আইনের জন্য কৃষি মান্ডিগুলির ক্ষতি হবে তারা মিথ্যা কথা বলছে।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য রবিবার বিরোধীদের বিক্ষোভ ধোপে টেকেনি। ধ্বনি রাজ্যসভায় পাস হয়ে গেছে কৃষি সংক্রান্ত জোড়া বিল। সংসদের চলতি অধিবেশনে তিনটি অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্স জারি করে মোদী সরকার সেগুলি হল কৃষিপণ্যের বাণিজ্য সংক্রান্ত অধ্যাদেশ,’কৃষি পরিষেবা ও কৃষি পণ্যের মূল্যের নিশ্চয়তা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন সংশোধন অধ্যাদেশ। কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল এই তিনটি অধ্যাদেশে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা হবে। কৃষকরা নিজের এলাকার বাইরে অন্যত্র বা অন্য রাজ্যে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের সুযোগ পাবেন। বর্তমানে চাল-গম সহ বেশ কিছু কৃষিপণ্য চাষীদের নোটিফাইড এলাকার বাইরে বিক্রি করতে পারেন না। নতুন অধ্যাদেশের বলে কৃষকরা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে কৃষি পণ্য উৎপাদন করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার এই অর্ডিন্যান্স গুলির বিলের আকারে পাস হয়ে যায় লোকসভায়। এরপর রবিবার এর মধ্যে দুটি বিল পাস হয় রাজ্যসভায়।

তবে বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের বক্তব্য, এই বিলগুলো তাদের স্বার্থ বিরোধী। এর ফলে চাষিরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। সবথেকে ক্ষতি হতে পারে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের। বেসরকারি সংস্থার হাতে তারা বিপন্ন হতে পারেন। কারণ উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য থেকে তাদের বঞ্চিত করার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু কৃষকরাই কমিশন এজেন্টরাও এই বিলের বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে তাদের ব্যবসা লাটে উঠবে ফলে। এছাড়াও তাদের সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মজদুর ও পরিবহনকর্মীরাও কাজ হারাবেন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here