করোনা সংকটে বৈষম্য ভুলে মানুষের সেবা করুন, নতুন করে দেশ পুনর্গঠনের ডাক দিলেন মোহন ভাগবত

আমাদের ভারত, ২৭ এপ্রিল: করোনার তাণ্ডবে পুরো পৃথিবীতে হাহাকার অবস্থা। ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলছে লকডাউন। আর এর ফলে বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। দেশের একাধিক প্রান্তে বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করেছে আর এস এস সহ তাদের শাখা সংগঠনগুলি। এই কঠিন পরিস্থিতিতে সদস্যদের কি কর্তব্য হওয়া উচিত তার রূপরেখা তৈরি করে দিলেন আরএসএস প্রধান মহান ভাগবত।সংঘ প্রধান বলেন, মহামারীর সময় বৈষম্য ভেদাভেদ ভুলে সবার পাশে দাঁড়াতে হবে। যেকোনো সাহায্যপ্রার্থীর জন্য এগিয়ে দিতে হবে হাত। পরিবেশ রক্ষায় স্বদেশী জিনিস উৎপাদন ও ব্যবহারের পরামর্শ দেন আরএসএস প্রধান। একইসঙ্গে করো না পরবর্তী সময়ে কি কি পরিবর্তন প্রয়োজন তাও বলেছেন তিনি।

ভাগবত বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মার্চ মাস থেকেই সংঘের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে সেবার কাজ। লকডাউনের মধ্যে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সংঘ সাহায্যে কাজ করছে বিপর্যস্তদের। তিনি বলেন, এই মহামারীকে ভয় না পেয়ে কাজ করতে হবে ঠান্ডা মাথায়। ক্রোধ দূরে সরিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে শান্ত ভাবে। নিজেকে সুস্থ রেখে অসহায় ও দুস্থ মানুষের সেবা করতে হবে। কোনো অসহায় ও দুস্থ মানুষ যেনো ত্রাণ থেকে বঞ্চিত না হয় তা দেখতে হবে। ভেদাভেদ বৈষম্য ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, সাহায্য নয় সেবার মানসিকতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি মনে করেন, ভারতের ১৩০ কোটি মানুষই ভারত মাতার সন্তান। সবাই আমাদের আত্মীয় বন্ধু। তিনি বলেন, ভারত নিজের উপর বাড়তি চাপ নিয়ে অন্য দেশকে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করেছে। এটাই ভারতের সংস্কার ও ঐতিহ্য। তাই এই প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসরণ করেই সেবার কাজ করতে হবে।

ভাগবত আয়ুস মন্ত্রকের তরফে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যে যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলার জন্য বলেন। তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় প্রথম থেকেই ভারত তৎপর ছিল বলেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তাই মাঝপথে এসে অসাবধান হলে চলবে না।

সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের পালঘরে দুই সাধুর গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন তিনি। এই ঘটনায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভাগবত।

করোনা পরবর্তী সময়ে দেশের পুনর্গঠনের জন্য সবাইকে একজোট হওয়ারও ডাক দেন তিনি। সংঘ প্রধান বলেন, লকডাউন উঠে গেলেও সবাইকে সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কারখানা অফিসগুলোতে কাজ শুরু করতে হবে। তার কথায় সংকট স্বাবলম্বী হতে শেখায় এই বিষয়টি সকলের মনে রাখা উচিত। সংঘ প্রধান বলেন, সংকট কাটলে ভারতকে নতুন করে গড়ার কাজ শুরু করতে হবে। উন্নয়নের নতুন মডেল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলার চেষ্টা করেন আমদানি করা জিনিসের উপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে হবে। দেশীয় জিনিস ব্যবহারে জোর দিতে হবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here