মা সারদাই মমতা রূপে পুর্নজন্ম নিয়েছেন, দাবি করলেন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি

আমাদের ভারত, ২৮ জুন:
এর আগে মমতার মধ্যে মা দুর্গা’কে দেখতে পেতেন অনেক তৃণমূল নেতা। কিন্তু হিসেব কষে সংখ্যাতত্ত্বকে মিলিয়ে দিতে পারেননি কেউই। সে ক্ষেত্রে নিজেকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে চলে গেলেন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি। মা সারদার পুনর্জন্ম হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রূপে। হ্যাঁ এমনটাই দাবি করেছেন উলুবেড়িয়ার বিধায়ক নির্মল মাজি।

কিছুদিন আগে দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে রানী রাসমনির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। এবার সেই মমতাকেই মা সারদার পুর্নজন্ম বলে দাবি করে বসলেন রোগী কল্যাণ সমিতির প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা উলুবেড়িয়ার বিধায়ক নির্মল মাজি। রবিবার বাঁকুড়ায় প্রগ্রেসিভ ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্মেলন ছিল। সেখানেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগের স্রোতে ভেসে গেলেন নির্মল। এমনকি মাসারদা জন্ম নিয়েছেন মমতা রূপে, দাবি করে বসলেন তিনি। যা নিয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।

নির্মল মাজি বলেন, “সারদা মা মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে তিনি তাঁর সতীর্থ বন্ধু মহারাজদের কাছে বলেছিলেন, আমি তো কালীঘাট মন্দির দিয়ে যাই, আমি ওখানে আসব। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট যেখানে মমতা থাকেন সেই রাস্তা ধরে যেতেন সারাদা মা। এমনকি এটাও বলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পরে তিনি কালীঘাটের কালী ক্ষেত্রে জন্ম নেবেন।”

নির্মল মাজি বলেন সারদা মা বলেছিলেন, “আমি মানুষ হিসেবে আবার জন্ম নেব। ত্যাগের রাস্তায় জীবন কাটাব। সমাজসেবার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করবো। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাব।” মমতার আবেগে ভেসে নির্মল বলেন, “সংখ্যাতত্ত্বের হিসাবে সারদা মায়ের মৃত্যু ও মমতার জন্মের সময় কাল এক। সেই অংকটা মিলিয়ে দিচ্ছ মমতাই সারদা। তিনিই ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল, তিনিই সিস্টার নিবেদিতা, তিনিই দুর্গা। অষ্টমী–নবমীর সন্ধিক্ষণে যার জন্ম হয় তিনি যুগে যুগে নব রূপে আসেন।”

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “ওর আগে এই দলের নেতা প্রাক্তন সাংসদ বলেছেন মা মনসার মত মমতার পুজো হবে ঘরে ঘরে। এখনোও উনি সেটা বলতে পারেননি। তবে মস্তিষ্ক বিকৃতি হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

রাজ্যের বিজেপি প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, “এমন বক্তব্যের পর দক্ষিণেশ্বর এলাকায় কান পাতলে শোনা যাবে রামকৃষ্ণদেব গুমরে কাঁদছেন।”

তৃণমূল নেতার এই মন্তব্য ঘিরে শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক চর্চা চলছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here