মায়ের সামনেই ছেলেকে গুলি করে খুন ভাটাপাড়ার বড় শ্রীরামপুরে, “তোলা না পেয়ে খুন”, অভিযোগ অর্জুন সিংয়ের

প্রতীতি ঘোষ, আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১২ সেপ্টেম্বর: মায়ের সামনেই ছেলেকে গুলি করে খুন করার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লো ভাটপাড়া থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের বড় শ্রীরামপুরে। শনিবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হলেন সিকান্দার দাস নামে বছর ৩৫ -এর এক যুবকের। আর এই খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক রং লাগতে শুরু করেছে।

মনোজ সাউ ওরফে মন্নু নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন সিকন্দার। সেই টাকা সিকান্দার শোধ দিতে পারছিলেন না। অভিযোগ, শনিবার রাতে মন্নু ও সুনীল স্কুটি চেপে আসে সিকান্দারের বাড়িতে। তাকে বাড়ির বাইরে ডাকে। সিকান্দার বাইরে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত মন্নুর সাথে কথা বলতে থাকে। সেই সময় হঠাৎ করেই ধারের টাকা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হলে দুজনের মধ্যে বচসা বেধে যায়। সেই সময় সিকান্দারের মায়ের সামনেই সিকান্দারকে গুলি করে মন্নু। খুব কাছ থেকে মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালায়, ফলে মাথায় গুলি লেগে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির সামনেই লুটিয়ে পড়ে সিকান্দার।

গুলির শব্দে সিকান্দারের বাড়ির অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসে এবং সংকটজনক অবস্থায় গুলিবিদ্ধ সিকান্দারকে ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। গুলি চালানোর ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসে ভাটপাড়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। এই ঘটনায় ব্যপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এই খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে ভাটপাড়া থানার পুলিশ।

তবে বড় শ্রীরামপুর এলাকায় পাওনাদারের গুলিতে খুন হওয়ার ঘটনাটিতে এবার লাগলো রাজনৈতিক রং। এই খুনের ঘটনায় ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংয়েরর অভিযোগ, সিকান্দার খুনের মূল অভিযুক্ত মনু সাউ জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের ঘনিষ্ঠ। এদিন নিজের মোবাইলে সোমনাথ শ্যামের সঙ্গে অভিযুক্ত মনু সাউয়ের ছবি দেখিয়ে প্রমাণ সহ এই অভিযোগ করেন সাংসদ অর্জুন সিং। তিনি এদিন অভিযোগ করে বলেন, “এখানে পাওনা টাকা নিয়ে বিবাদ নয় তোলা আদায় করতে গিয়ে সেই টাকা না পেয়েই তৃণমূল কর্মী মনু সাউ সিকন্দরকে গুলি করে খুন করেছে। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি করছি।” তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে আরও বলেন, “এখানে আইনের শাসন নেই। পুলিশ সম্পূর্ণ দল দাসে পরিণত হয়েছে। যে কোনও কেউ যখন তখন এখানে খুন হাতে পারে। বেআইনি অস্ত্র নিয়ে বাচ্চা বাচ্চা ছেলেরা ঘুরছে। আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য এগুলো করছে দুষ্কৃতীরা।”

অন্যদিকে জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম অভিযুক্তের ঘনিষ্ঠতা অস্বীকার করে সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। এদিন বিধায়ক বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। কিন্তু অর্জুন সিং সব সময় সব কেসে আমাকে জড়াতে চায়। অভিযুক্ত এই এলাকার বাসিন্দা তাই কোনও অনুষ্ঠানে তার সাথে আমার ফটো থাকতেই পারে তার মানে এই না যে সে আমার ঘনিষ্ট।”
তবে সব মিলিয়ে সিকান্দার দাস খুনের ঘটনা নিয়ে ফের রাজনৈতিক ভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভাটপাড়ার জগদ্দল এলাকা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here