নিহত পুরোহিত বিজেপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন, দাবি সাংসদের

নিহত পুরোহিত বিজেপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন, দাবি সাংসদের

স্নেহাশিস মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদীয়া, ১০ অক্টোবর:
নদিয়ার শান্তিপুরে বাগআঁচড়া পঞ্চায়েতের বাগদেবী তলার বাসিন্দা মৃত সুপ্রিয় ব্যানার্জি বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন, এমনই দাবি রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের। তিনি জানান, লোকসভা ভোটে তিনি যাতে জয়লাভ করতে পারেন সেজন্য ওই পুরোহিতই তাঁকে মানত করিয়েছিলেন। ভারতীয় জনতা পার্টির কর্মীদের ভয় দেখানোর জন্য, যাতে তাঁরা কেউ বিজেপি না করে সেইজন্যই পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী এই খুন করেছে।

উল্লেখ্য, নবমীর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন পুরোহিত সুপ্রিয় ব্যানার্জি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাগদেবী তলার একটি পুকুর থেকে সুপ্রিয়বাবুর দেহ ভেসে ওঠে। পরে খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করতে এলে শান্তিপুর থানার পুলিশকে আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের অভিযোগ, ওই পুরোহিতকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ কুকুর না এনে মৃতদেহ তোলা যাবে না দাবি জানিয়ে শান্তিপুর— বাগআচড়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করে স্থানীয় মানুষজন।

এরপর তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপুর থানা এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, খুন করে মৃতদেহ স্কুল ঘরে রেখে দিয়েছিল দুষ্কৃতিরা। কাল রাতে পুকুরে ফেলেছে। জগন্নাথবাবু বলেন, বিজেপি কর্মীরা বারবার বলা সত্বেও সেই ঘর খুলতে দেওয়া হয়নি। তালা বন্ধ ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ বেরোলেও অভিযোগ, পুলিশ দিয়ে কেস খাওয়ানোর ভয় দেখিয়ে তৃণমূল পরিচালিত সমিতি ঘর খোলেনি। সাংসদ জগন্নাথ সরকারের অভিযোগ, পুরোহিত খুনে তৃণমূল জড়িত হলেও লাশ গায়েব করার জন্য চক্রান্তে জড়িয়ে আছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। আমরা চাই খুনের তদন্ত হোক, যারা খুন করেছে তাদের শাস্তি হোক এবং শুধু তাই নয় পুলিশ যে প্রমাণ লোপাট করতে চাইছে তাঁদের বিরুদ্ধেও বিচারবিভাগীয় তদন্ত করা হোক।
বাগআঁচড়া পঞ্চায়েতের প্রধান মমতা ধারা জানান, এই ঘটনা সম্পূর্ন রাজনীতির বাইরে। কে বা কারা এইধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তা পুলিশি তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। ওঁনাকে ঐভাবে মারা উচিত হয়নি। যারা মেরেছে তাদের যেন কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তি হয়।

রাণাঘাট মহকুমা পুলিশ জেলার সুপার ভি এস আর
অনন্তনাগ এ প্রসঙ্গে জানান, একটা খুনের ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ তদন্তে নেমেছে। তবে এখন পর্যন্ত সরাসরি প্রত্যক্ষ রাজনীতির যোগাযোগ আছে সেইরকম কিছু তদন্তে উঠে আসেনি। তবে যেহেতু রাজনীতির অভিযোগ উঠছে, আমরা তদন্ত করছি, এই পুজোর সময় আইনশৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয় তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসাররা ঘটনাস্থলে আছেন। পুজোর কটাদিন যাতে ঐ এলাকা শান্তিপুর্ণ ভাবে থাকে তার সবরকম ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − nine =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.