“মাই বাপ” নরেন্দ্র মোদী! “অবাধ্য রাজ্য পশ্চিমবঙ্গকে বাধ্য করালেন”

তপন ঘোষ
আমাদের ভারত, ২৬ এপ্রিল: একজন ডাক্তারের কাছ থেকে সারা দেশের করোনা পরিস্থিতির উপর এই সারণিটা (ওপরের ছবিতে দেখুন) পেলাম। এতে দেখা যাচ্ছে যে দেশের সমস্ত রাজ্যের মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে পশ্চিমবঙ্গে কোভিড-১৯ টেস্টের পরিমাণ সব থেকে কম এবং চিহ্নিত আক্রান্তদের মধ্যে করোনায় মৃত্যুর হার সব থেকে বেশি। এই দুটি পরিসংখ্যানই গভীর আশঙ্কার কারণ। জানি না পশ্চিমবঙ্গের ভাগ্যে কী আছে!

আরো লজ্জার কথা, এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও কেন্দ্রীয় পরিদর্শন টিমকে প্রথমে অসহযোগিতা এবং অসভ্যতা করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তাতে একটুও না দমে কড়া হাতে এই অসহযোগিতার মোকাবিলা করেছেন এবং যথাযথ রিপোর্ট দিয়েছেন। এই রিপোর্ট দেওয়ার পরই দেখা যাচ্ছে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের আচরণ অনেকটাই বদল হয়েছে, এবং নিজেদের ব্যর্থতাগুলিকে আগের মত না ঢেকে কিছুটা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই দৃঢ়তা সত্যি প্রশংসনীয়।

২০১৪ সালে মোদীজী ক্ষমতায় বসে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে লালকেল্লা থেকে ১৫ আগস্টের বক্তৃতা শোনার পর আমি লিখেছিলাম, অনেকদিন পর দেশ “মাই বাপ” পেল, অর্থাৎ একজন প্রকৃত অভিভাবক পেল দেশ। আজ সেই কথাটা আবার মনে পড়ছে। হাতের পাঁচটা আঙ্গুল এক হয় না। সেরকম বাড়ির পাঁচটা ছেলেও একরকম হয় না। কিন্তু একজন কঠোর অভিভাবক বাড়ির অবাধ্য ছেলেটাকে দিয়েও বাড়ির নিয়ম শৃঙ্খলা পালন করিয়ে নেন। মোদীজী ও অমিত শাহ’র কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক সেইভাবে অবাধ্য রাজ্য পশ্চিমবঙ্গকে বাধ্য করলেন to toe the line. এর ফলে মোদী অমিত শাহের গৌরব যেটুকু বাড়ল তার থেকেও অনেক বেশি লাভবান হল পশ্চিমবঙ্গ, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, এই বিশ্বব্যাপী মহামারীর সময়।
(লেখক তপন ঘোষ, কট্টরপন্থী হিন্দু নেতা।)

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here