আইন পাসের পর ১ বছরে তিন তালাকের সংখ্যা কমেছে ৮২ শতাংশ: নকভি

আমাদের ভারত, ২৩ জুলাই: তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রথা বিলোপ নিয়ে কম বিতর্কের ঝড় ওঠেনি। মোদী সরকারের এই পদক্ষেপের চুড়ান্ত বিরোধিতা করেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। কিন্তু তিন তালাক নিষিদ্ধ হওয়ার এক বছর পর দেখা যাচ্ছে দেশে তিন তালাক দেওয়ার সংখ্যা ৮২ শতাংশ কমে গিয়েছে। “ট্রিপল তালাক- বিগ রিফর্ম- বেটার রেজাল্ট” শীর্ষক এক নিবন্ধে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি এমটাই মন্তব্য করেছেন।

গত বছর থেকে নিষিদ্ধ হয়েছে তিন তালাক। এখন ওই ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ১ আগস্ট দেশের মুসলিম মহিলারা তিন তালাকের মত একটা বড় সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এটি ছিল মুসলিম মেয়েদের অধিকার রক্ষার দিন। ওই নিবন্ধে নাকভি লিখেছেন, ভোটের লোভে এই ধরনের প্রথাকে জিইয়ে রাখা হয়েছিল।

ধর্মনিরপেক্ষতার নাম করে তিন তালাক বিলের বিরোধিতা হওয়া সত্বেও গত বছর ১ আগস্ট তিন তালাক বিল আইনে পরিণত হয়েছিল। এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস এই বিলের বিরোধিতা করেছে। অথচ মোদী সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দেশের মুসলিম মহিলারা সাংবিধানিক ও সামাজিক অধিকার রক্ষা পেয়েছে।

মন্ত্রী লিখেছেন দেশ চলে সংবিধানের ওপর নির্ভর করে। কোন ধর্মীয় গ্রন্থ বা শরিয়তের উপর নির্ভর করে নয়। এর আগেও সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহের মতো বহু সামাজিক প্রথা বিলোপ করতে আইন আনা হয়েছে। তিন তালাকের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি অমানবিক সামাজিক প্রথা। তাই একে বন্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, শুধুমাত্র চিঠি দিয়ে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করেই তালাক দেওয়া হয়েছে। এই জিনিস সরকার চলতে দিতে পারেনা।

এই তিন তালাক প্রথা বিলোপের সময় সরকারের তরফে যুক্তি ছিল, পৃথিবীর একাধিক দেশে এই ধরনের তালাকের প্রথা বন্ধ হয়েছে আগেই। ১৯২৯ মিশরে, ১০৫৬ সালে পাকিস্তানে, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে, ১৯৫৯ সালে ইরাকের, ১৯৫৩ সালের সিরিয়ায়, ১৯৬৯ সালে মালয়েশিয়ায় তিন তালাক প্রথা বিলোপ করা হয়েছে। অথচ ভারতে এই ধরনের প্রথা বিলোপ করতে ৭০ বছর সময় লাগল।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here