অযোধ্যার পর গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য কাশী বিশ্বনাথ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি পুনরুদ্ধার

অযোধ্যার পর গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য  কাশী বিশ্বনাথ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি পুনরুদ্ধার

শ্রীরূপা চক্রবর্তী,আমাদের ভারত, ১১ আগস্ট:
অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে অযোধ্যার রাম মন্দিরের পরে সন্তদের পরবর্তী লক্ষ্য হবে কাশী বিশ্বনাথ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমির মন্দিরের পুনরুদ্ধার। সুপ্রিম কোর্টে লাগাতার অযোধ্যা মামলার শুনানি চলছে। ফলে, খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাই কাশী বিশ্বনাথ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মথুরার মন্দিরের পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এবার তারা এগিয়ে যাবেন।


ইতিহাস বলছে, বেনারসের কাশী বিশ্বনাথের মন্দিরে ভগবান শিবের আরাধনা করা হয় কয়েক হাজার বছর ধরে। সাড়ে তিন হাজার বছরের পুরনো শহরে বেনারস। এটি হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় জায়গা। যেখানে হিন্দু ধর্মপ্রাণ মানুষ জীবনে একবার অন্তত পূণ্য অর্জন করতে অবশ্যই আসেন। এখানে বিশ্বনাথ বা বিশ্বেশ্বর পূজিত হন। এই মন্দিরময় শহরটি পৃথিবী অন্যতম পুরাতন শহর বলে জানা যায়। তবে, কাশী বিশ্বনাথের আসল জ্যোতির্লিঙ্গটি পাওয়া যায় না। মুঘল দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পুরাতন মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ইতিহাস বলে, এই মন্দির বহুবার ধ্বংস ও আক্রান্ত হয়েছিল মুসলিমদের দ্বারা। ১১৯৪ সালে প্রথমবার আক্রান্ত হয়ে মন্দির। কুড়ি বছর বাদে আবার তা নির্মাণ করা হয়। ১৫ শতকে আবার হামলা হয় মন্দিরে, ১৬ শতকে আকবরের আমলে এটি আবার পুনর্নির্মিত হয়। কিন্তু আকবরের পরবর্তী বংশধর ঔরঙ্গজেব ১৬৬৯ সালে মন্দিরটিকে ধ্বংস করেন এবং তার জায়গায় জ্ঞানবাপী মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। মারাঠা রানী অহল্যাবাই হোলকার ১৭৮০ সালে আবার বর্তমান মন্দিরটি বানান ওই মসজিদের কিছু দূরেই। এই মন্দিরের সোনার চূড়া দান করেছিলেন পাঞ্জাবের শিখ রাজা মহারাজা রঞ্জিত সিং ১৮৩৯ সালে।

অন্যদিকে,উত্তরপ্রদেশের মথুরায় অবস্থিত কৃষ্ণ জন্মভুমি মন্দির বা কেশবদেব মন্দির। মথুরায় এই মন্দির কৃষ্ণের পৌত্র বজ্রা দ্বারা নির্মিত বলে মনে করা হয়। মথুরায় কৃষ্ণের জন্মস্থান আর মন্দির বানানো হয় আনুমানিক ৫ হাজার বছর আগে। এই মন্দিরটি দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ সালে নির্মিত হয় বলে মনে করা হয়। ১০১৭ সালের মন্দির ধ্বংস হবার পর নতুন করে বীর সিং দেও এবং বীর সিং বুন্দেলা তা আবার তৈরি করেন। কেশবদেব মন্দিরও ঔরঙ্গজেব ধ্বংস করে তার উপর নির্মাণ করে শাহি ইদগাহ মসজিদ। আগের মন্দিরটি বহুদূর থেকে দেখা যেত। এখন যে মন্দিরটি আমরা দেখতে পাই সেটি চতুর্থতম মন্দির। এটি বানানো হয়েছে ১৯৬৫ সালে। এই মন্দির নিয়ে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। শাহি ইদগাহ মসজিদ বানানো হয় মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ দিয়ে‌, যার প্রমাণ পাওয়া যায় এএসআই দ্বারা একটি ফলকে জাতির উদ্দেশে তাতে লেখা আছে, এই শাহি ইদগাহ মসজিদ বানানো হয়েছে মন্দিরের ভাঙ্গা পাথরের মূর্তির অবশিষ্টাংশ দিয়ে।

অতএব অযোধ্যার মত মন্দির ভেঙ্গে যেখানে যেখানে মসজিদ হয়েছিল যেসব জায়গার মন্দির পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে পথে নামতে চলেছে সন্ত সমিতি।


এই দুই মন্দির ছাড়াও সন্ত সমিতির তরফে স্বামী জিতেন্দ্রনন্দ সরস্বতী বলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সারদা পীঠ সহ ১৯৯০ এর দশকে জম্মু-কাশ্মীরের ভেঙ্গে দেওয়া ৪৩৫টি মন্দির সরকারি খরচে পুনরুদ্ধার করা হোক।

তিনি বলেন, লাখ লাখ কাশ্মীরী হিন্দুদের তাড়িয়ে দেবার পর সেখানে ভেঙ্গে ফেলা হয় একাধিক মন্দির। ফলে মন্দির ভাঙ্গার ঘটনায় অপরাধমূলক মামলা শুরু করার দাবি জানান তারা, ঠিক যেমন বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পরে মামলা করা হয়েছিল।

একই সঙ্গে সন্তরা বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন,আর দেরি না করে সরকারের উচিত রামসেতুকে রাষ্ট্রীয় স্মারক ঘোষণা করা।
তারা বলেন ঠিক যেভাবে মসজিদ, গুরুদ্বার,বৌদ্ধ-জৈন মন্দির সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত, ঠিক একইভাবে হিন্দু মন্দিরগুলোকেও সরকারি নিয়ন্ত্রণ মুক্ত করা উচিত। এক্ষেত্রে হিন্দুদের সঙ্গে যে ভেদাভেদ রয়েছে,তা শেষ করা উচিত।


দিল্লিতে সন্তদের এই শীর্ষ সমিতির বৈঠকে সারাদেশ থেকে একশোর বেশি সন্ত অংশগ্রহণ করেছিলেন। আচার্য অবিচল দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দীনেশচন্দ্র এবং চম্পত রায় উপস্থিত ছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × 5 =