পুজোয় অংশ নিয়ে রোষের শিকার নুসরত জাহান, তৃণমূল সাংসদের পাশে ফরওয়ার্ড ব্লক

পুজোয় অংশ নিয়ে রোষের শিকার নুসরত জাহান, তৃণমূল সাংসদের পাশে ফরওয়ার্ড ব্লক

তারক ভট্টাচার্য

আমাদের ভারত, ৭ অক্টোবর: অষ্টমীতে স্বামীর সঙ্গে সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজোয় অংশ নিয়ে অঞ্জলি দিয়েছিলেন। স্বামী নিখিল জৈনের সঙ্গে ওই পুজোমণ্ডপে ঢাক বাজিয়েছিলেন। ঢাকের তালে কোমরও দুলিয়েছিলেন। এই সব কারণে, মৌলবাদীদের রোষের শিকার হলেন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান জৈন। উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দের মুসলিম সংগঠন ‘ইত্তেহাদ উলেমায়ে হিন্দ’-এর মুফতি আসাদ কাজমি ফতোয়া জারি করেছেন নুসরতের বিরুদ্ধে। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহ ছাড়া আর কারও সামনে প্রার্থনা করার অনুমতি ইসলাম দেয় না। করলে, সেটা হারাম। নুসরত জাহান পুজো করছেন। এটা ইসলামের বিরোধী। উনি একজন অমুসলিমকে বিয়ে করেছেন। ইসলামের চর্চা করেন না। ওঁনার উচিত নামটা বদলে ফেলা।’

এর আগে, সংসদে নববধূর বেশে শপথ নিতে গিয়ে এভাবেই মৌলবাদীদের রোষের শিকার হয়েছিলেন নুসরত। ইস্কনের রথযাত্রায় অংশ নেওয়ার পরও তিনি একইভাবে হুমকির শিকার হন। সেই সময়ই পালটা বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ নুসরত বলেন, ‘একজন হিন্দুকে বিয়ে করা মানে এই নয় যে, আমি আমার মুসলিম সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে দিয়েছি। আমি মুসলিম পরিবারে জন্মেছি। সেই ধর্ম পালন করব। কিন্তু, অন্য ধর্মকে সম্মান করতে তো দোষের কিছু নেই।’ মৌলবাদীদের হুমকির কাছে যে তিনি মাথা নোয়াবেন না, সেটা বোঝাতে স্বামীকে নিয়েই আজ রাত ১০টার পর ফিরহাদ হাকিমের পুজো বলে পরিচিত, চেতলা অগ্রণীর মণ্ডপে যান এই অভিনেত্রী-সাংসদ।

এই পরিস্থিতিতে মৌলবাদীদের সুরে সুর মিলিয়ে নুসরতের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ী শিবাজি পাঁজা। আগে প্রায়ই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশপাশে গামছা কাঁধে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত শিবাজি পাঁজাকে। নানা প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর আর দেখা যায় না। আজ নবমীর সকালে শিবাজি পাঁজা ফেসবুকে প্রশ্ন তোলেন, নুসরতের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে। তিনি লেখেন, ‘নুসরত কোন ধর্মাবলম্বী, সেটা অবিলম্বে ওঁর পরিষ্কার করে বলা উচিত। মন্ত্রোচ্চারণ করে পুষ্পাঞ্জলি দিতে গেলে বা জগন্নাথ দেবের আরতি করতে গেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতেই হবে।’

পালটা, বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ নুসরতের পাশে দাঁড়িয়েছেন বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক। দলের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ভারতবর্ষ সর্বধর্ম সমন্বয়ের দেশ। যে কোনও ব্যক্তি যে কোনও ধর্মের আচরণ করতে পারেন। সেই অধিকার আমাদের সংবিধানই দিয়েছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + eleven =

amaderbharat.com

Welcome To Amaderbharat.com, Get Latest Updated News. Please click I accept.