করোনায় মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্ত রাজ্যবাসী! কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসেব ৯১, রাজ্যের হিসেব ৬৯

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা, ৮ এপ্রিল: কার তথ্য যে সঠিক, সেটাই যেন বুঝে উঠতে পারছেন না পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার নবান্নের তরফে ঘোষণা করা হয়, রাজ্যে নতুন আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮ জন, মৃত্যু হয়েছে আরও ২ জনের। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯, মৃত ৫। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ওয়েবসাইটে জ্বলজ্বল করছে পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৯১ জন। ফলে করোনা নিয়েও যে কেন্দ্র রাজ্য সুক্ষ্ম রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছে, তা বুঝতে পারছেন অনেকেই।

প্রসঙ্গত, কাল নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন বাম প্রতিনিধিদল। সেই দলে ছিলেন বিমান বসু ও সূর্যকান্ত মিশ্র। তাঁরা বেরিয়ে যাওয়ার পরই সাংবাদিক বৈঠকে বসেন মমতা। সূত্রের খবর, এদিন বাম নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে করোনা টেস্টিং বাড়ানোর দাবি সহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

বৈঠকে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। লকডাউন ওঠার পরও যে সবরকমের সাবধানতা অবলম্বন করা হবে তা জানিয়ে দেন তিনি। বলেন, ‘লকডাউন কবে উঠবে, জানি না। তবে যখনই উঠুক সেই সময় অনেক লোক আসতে শুরু করবে। এই সময় বাইরে থেকে যারা আসবেন তাদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হবে।’

এদিকে কলকাতায় বেসরকারি সূত্রে পাওয়া ১১ জন নতুন আক্রান্তের মধ্যে দুজন ফুটপাথবাসীরও খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ৩ এপ্রিল ৪০ বছর বয়সী এক অসুস্থ ভিক্ষাজীবীকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করেন বৌবাজার থানার এক পুলিশ অফিসার। এলাকায় টহল দিতে গিয়ে তিনি কবিরাজ রো-তে ওই ব্যক্তিকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। ওই ব্যক্তির জ্বর, সর্দি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসায় ওই ব্যক্তির অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সোমবার রাতেই তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ এলে মঙ্গলবারই তাঁকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

একই ভাবে গার্ডেনরিচ থানা এলাকার টুকরাপট্টি থেকে ৫৯ বছর বয়সী এক অসুস্থ ফুটপাথবাসীকে ১ এপ্রিল স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ভর্তি করে নাদিয়াল হাসপাতালে। জানা যায়, তিনি মেটিয়াবুরুজ থানা এলাকার মিঠা তালাও এলাকার বাসিন্দা এবং ওই এলাকায় ভিক্ষা করতেন। সোমবার তাঁর শারীরিক অবস্থার আচমকা অবনতি হলে এবং তাঁর লালারসের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সোমবার রাতে তাঁর রিপোর্টও পজিটিভ এসেছে। মঙ্গলবার সকালে তাঁকে এমআর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এরা দুজন কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর। ফুটপাথবাসীর বিদেশযাত্রার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে এই দু’জন যদি এই শহরেই সংক্রামিত হন, তাহলে তা মুম্বাইয়ের মতো গোষ্ঠী সংক্রমণের বিপদ ডেকে আনতে পারে বলে মত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

ওই দুই ভিক্ষাজীবী সহ বেসরকারি সূত্রে রাজ্যে আরও উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ১১ জনের আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা গিয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রাজাবাগান এলাকার ৪৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তিরও সোমবার রাতে রিপোর্ট পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। মধ্য কলকাতার মুচিপাড়া লেনের ৫৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তিরও সোমবার রিপোর্টও পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও গণেশ টকিজ এলাকার ৮২ বছরের এক বৃদ্ধ এবং গিরিশ পার্ক এলাকার ৫২ বছরের এক মহিলারও সোমবার রাতে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। হাওড়া গোলাবাড়ি এলাকার ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিরও লালারসের নমুনায় করোনা পজিটিভ এসেছে। একই সঙ্গে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রাজাবাজারের বাসিন্দা ৪০ বছরের এক যুবকেরও নমুনা পরীক্ষা করেও সোমবার করোনা পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। তাঁকেও মঙ্গলবার এমআর বাঙুর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আলিপুর কমান্ড হাসপাতালের সেনা চিকিৎসকের পর এ বার এক সেনারও করোনা পজিটিভ এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে উত্তরবঙ্গেও। এ বার উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের এক নার্স আক্রান্ত হয়েছেন। জানা গিয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া কালিম্পঙের মহিলার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওই নার্স। আচমকা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সেই রিপোর্টে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজেই গত রবিবার মৃত্যু হওয়া উত্তর-পূর্ব রেলের এক কর্মীর ছোট ছেলেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলা জানা গিয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here