রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের সর্বসম্মত প্রার্থী যশবন্ত সিনহা

আমাদের ভারত, ২১ জুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী জোটের মুখ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রস্তাবিত প্রার্থী যশবন্ত সিনহার নামে ঐক্যবদ্ধ হল আঠারোটি বিরোধী দল। বৈঠকে যশবন্ত সিনহার নামে সর্বসম্মত সীলমোহর পরে। বৈঠক শেষে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন জোটের অন্যতম প্রধান নেতা এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার।

সূত্রের খবর, বিরোধী জোটে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর নাম ছাড়াও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহার নাম প্রস্তাব করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই দুজন ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি নাম উঠে আসে। তবে শেষ পর্যন্ত যশবন্ত সিনহার নামই সর্বসম্মত হয়‌ সবদল।

আজ সকালে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ টুইট করে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েন যশবন্ত সিনহা। তিনি লেখেন, “তৃণমূলে মমতাজি আমাকে যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এখন সময় এসেছে যখন বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে আমাকে দল থেকে সরে এসে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের জন্য কাজ করতে হবে। আমি নিশ্চিত যে আমার এই পদক্ষেপটি সমর্থন করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” বিরোধী জোটের রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী হিসেবে যশবন্ত সিনহার নাম আলোচনার মধ্যে ছিল। সকালে তার টুইটে ধীরে ধীরে জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। তার লেখা বৃহত্তর স্বার্থ আসলে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত ছিল বলেই ধরে নেয়া অনেকেই। পরে সেই ধারণাই পোক্ত হয়ে যায়। অটল বিহারী বাজপাইয়ের কেবিনেট এর গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী যশবন্ত সিনহার নাম ঘোষিত হয় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে। তার নাম ঘোষিত হওয়ার পরই টুইটারে তাকে শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রাক্তন আমলা যশোবন্তর ১৯৮৪ সালে জনতা দলের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান। এরপর তার সঙ্গে গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একটা সময় তিনি বিজেপির মুখপাত্র ছিলেন। অটল বিহারী বাজপায়ের আমলে অর্থ এবং বিদেশমন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন যশোবন্ত। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে বিজেপির সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে বিজেপি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। ২০২১ এর মার্চে যোগদান করেন তৃণমূলে। তবে তার ছেলে জয়ন্ত সিনহা এখনও বিজেপিতে রয়েছেন। জয়ন্ত ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here