পঞ্চায়েতের অ্যাম্বুলেন্স দেরিতে আসায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু, ক্ষোভে পঞ্চায়েতে তালা গ্রামবাসীদের

আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৩ জুন: গ্রাম পঞ্চায়েতের অ্যাম্বুলেন্স দেরিতে আসায় বিদুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তি মারা যায়। ক্ষোভে গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখায়।

গাছ কাটতে গিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুতের লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের রমনীমোহন গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ কাশিমনগর গ্রামের চন্দন দিন্ডার। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে পঞ্চায়েতের আ্যাম্বুলেন্সের পরিষেবা না পাওয়ায় ঐ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গ্রামবাসীরা প্রায় দু ঘন্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখায়।

শনিবার সকালে চন্দন দিন্ডা (৪৫) নামে এক ব্যক্তি রমনীমোহন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৫০ মিটার দূরে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের পাশে একটি গাছ কাটছিল, কিন্তু গাছের ডাল বিদ্যুতের লাইনে জড়িয়ে যায়। চন্দন দিন্ডা তৎক্ষনাৎ বিদ্যুৎ স্পৃষ্ঠ হয়। গ্রামবাসীরা স্থানীয় ইলেকট্রিক সাব-স্টেশনে ফোন করে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন লাইনটি বন্ধ করে লোকটিকে গাছ থেকে ছাড়ায় তখনও লোকটি জীবিত ছিল।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব আ্যাম্বুলেন্সকে ফোন করা হলেও আসেনি। অনেক বার ফোন করার পর প্রায় ৩ ঘন্টা পরে আ্যাম্বুলেন্স এলে তৎক্ষণে ঐ ব্যাক্তির মৃত্যু হয়। এরপর উত্তেজিত গ্রামবাসীরা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের গেটে তালা মেরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পরে মহিষাদল থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতির সামাল দেয় এবং ময়না তদন্তের জন্য মৃত দেহটি থানায় নিয়ে যায়।

এই ব্যাপারে রমনী মোহন অঞ্চলের উপ প্রধান জানালেন, তারা আ্যম্বুলেন্স চালককে ধিক্কার জানিয়েছে এবং তাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিয়ে তার কাছ থেকে আ্যম্বুলেন্সের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে বিজেপির অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতের আ্যম্বুলেন্স গ্রামের মানুষের কোনো কাজে লাগে না বরং শাসক দলের বেশ কিছু নেতা আ্যম্বুলেন্স নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যাবহার করে।

এখন প্রশ্ন উঠছে আ্যাম্বুলেন্স বিপদের সময় যদি গ্রামের মানুষদের কাজে না লাগে তাহলে আ্যম্বুলেন্স রেখে লাভ কি?

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here