রায়গঞ্জের বারোগন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা দিয়ে বিক্ষোভ অভিভাবকদের

রায়গঞ্জের বারোগন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা দিয়ে বিক্ষোভ অভিভাবকদের

আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২২ জুলাই: ছাত্রছাত্রীদের ঠিকমতো মিড ডে মিলের খাবার খেতে দেওয়া হয়না, বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষিকারা সময়মতো আসেননা এবং ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে বাজার করানো সহ একগুচ্ছ অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এরই প্রতিবাদে আজ বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক শিক্ষিকাদের বের করে দিয়ে বিদ্যালয়ে তালাবন্ধ করে বিক্ষোভ দেখাল রায়গঞ্জের বারোগন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকেরা। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জ ব্লকের ১৩ নম্বর কমলাবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের বারোগন্ডা গ্রামে। যদিও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আন্দোলনকারী অভিভাবকদের দাবি, অবিলম্বে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন ও মিড ডে মিল স্বাভাবিক করার লিখিত প্রতিশ্রুতি না দেওয়া পর্যন্ত তারা স্কুল বন্ধ করে রাখবেন। বিদ্যালয়ের টিচার ইন চার্জ সমস্ত বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

রায়গঞ্জ ব্লকের ১৩ নম্বর কমলাবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের বারোগন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে খুদে পড়ুয়াদের দিয়ে বাজার করানো সহ নানান কাজ করানো হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ঠিকমতো মিড ডে মিলের খাবার দেওয়া হয়না এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিরারা নিয়মিত স্কুলেও আসেননা। এরই প্রতিবাদে আজ স্কুল খুলতেই ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকেরা স্কুলে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারী অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষক শিক্ষিকাদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দিয়ে স্কুলের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।

যদিও বারোগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিচার ইন- চার্জ প্রভা রায় বর্মন জানিয়েছেন, মিড ডে মিলের খাবার দেওয়া নিয়ে অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। তিনি এও জানান, বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন এবং সুষ্ঠুভাবে পঠন পাঠন হয়। তবে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে বাজার করানোর বিষয়টি একপ্রকার স্বীকার করে নিয়ে টিচার ইনচার্জ প্রভা দেবী জানান, আগের প্রধানশিক্ষক ছেলেদের দিয়ে বাজার করাতেন, সেই ধারাই বজায় রাখা হয়েছে।

অভিভাবকদের দাবি বারোগন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন ও মিড ডে মিল স্বাভাবিক না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। অভিভাবকদের এই আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলের পঠন পাঠন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten + eleven =