বেসরকারি স্কুলে ফি মামলায় হাইকোর্টে ধাক্কা খেল অভিভাবকরাই

রাজেন রায়, কলকাতা, ২১ জুলাই: লকডাউন চলাকালীন কলকাতার বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলে ফি দেওয়া নিয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন অভিভাবকরা। কোনও কোনও স্কুলের বিরুদ্ধে ফি-বৃদ্ধির অভিযোগও উঠেছিল। টিউশন ফি ছাড়া অন্যান্য ফি দিতে নারাজ ছিলেন সমস্ত অভিভাবকরাই। এই নিয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন বিনীত রুইয়া নামে এক অভিভাবক। কিন্তু সেই মামলার রায় গেল মামলাকারী অভিভাবকদের বিপক্ষেই। অপ্রত্যাশিত এই রায়ে রীতিমত আশাহত অভিভাবকরা। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১০ আগস্ট।

মঙ্গলবার ওই মামলায় অভিভাবকদের সম্পূর্ণ বিপক্ষে রায় দেন কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সঞ্জীব ব্যানার্জি ও মৌসুমি ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। তাঁরা নির্দেশ দেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যে বকেয়া পড়ে রয়েছে, তা সমস্ত মিটিয়ে দিতে হবে। কমপক্ষে ৮০ শতাংশ বকেয়া বেতন দিতেই হবে। আর যাঁরা পারবেন তাঁদের ১০০ শতাংশই আগামী ১৫ অগস্টের মধ্যে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সমস্ত বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে হবে।

অভিভাবকরা শুধুমাত্র টিউশন ফি দেওয়ার দাবি রেখে যে মামলা করেছিলেন তা কার্যত খারিজ করে দিল আদালত। বেসরকারি স্কুলগুলিকেও একটি হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখ থাকবে স্কুলগুলোর আয় ব্যয়ের হিসেব। পাশাপাশি আরও নির্দেশ, বকেয়া ফি না দিতে পারলে অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বাদ দিতে পারবে না স্কুলগুলি।

মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল জানান, লকডাউনের কারণে রাজ্যের সব স্কুল বন্ধ রয়েছে। তা সত্ত্বেও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ক্লাসের ফি, শিক্ষকদের বেতন সহ অন্যান্য খরচ খরচা বাবদ অতিরিক্ত ফি ধার্য করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে অভিভাবকদের পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ফি মুকুবের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল।

এদিন রাজ্যের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত। তিনি জানান, রাজ্যের স্কুলগুলোর কাছে ফি মুকুব সংক্রান্ত বিষয় ছাড় দেওয়া যায় কি না তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। স্কুলের কর্মচারী এবং শিক্ষকদের বেতন যাতে বন্ধ না করা হয় তাও জানানো হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাত্র-ছাত্রীদের ফি-র কিছু অংশ ইতিমধ্যেই পর্যালোচনা করে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ বাদ দিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ফি বরাদ্দ করেছে। যেখানে তাদের বিদ্যুৎ, গাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্কুলের স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মীদের বেতনও দিচ্ছে স্কুলগুলি। স্বাভাবিক ভাবেই এতে বহু মানুষের রুজি রোজগার জড়িয়ে আছে। তাই এভাবে ফি কমিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। যেহেতু অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে তাই পুরোপুরি ফি মুকুব করে স্কুল চালাতে পারে না কর্তৃপক্ষ।

দু পক্ষের বক্তব্য শুনে ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, বেসরকারি স্কুলে মোটামুটি সমাজের আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল শ্রেণির মানুষজনের সন্তানরা পড়াশুনা করে। স্কুল ইতিমধ্যে একাধিক ফি বাদ দিয়েছে। তাই বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে হবে। অন্তত ৮০ শতাংশ মিটিয়ে দিতেই হবে। তাছাড়া মামলাকারী এবং বিভিন্ন বোর্ড বা কাউন্সিলের অধীনে থাকা রাজ্যের ১১২ টি বেসরকারি স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হলফনামা আকারে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে রাজ্যের ভূমিকা কি রকম, হলফনামা দিয়ে তা রাজ্যকেও জানাতে হবে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here