ঐতিহ্যবাহী মনসা পুজোয় লকডাউন উঠে যাওয়ায় খুশির হাওয়া পুরুলিয়ায়

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৬ আগস্ট: পুরুলিয়া জেলার অন্যতম বড় লোক উৎসব মনসা পূজায় লকডাউন উঠে যাওয়ায় খুশির হাওয়া জেলা জুড়ে। লকডাউন থাকছে না ১৬ ও ১৭ আগস্ট। এটা সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি হতেই উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে জঙ্গলমহলের বাসিন্দাদের মধ্যে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম মেদিনীপুর জেলায় অন্যতম বড় উৎসবের আকার নেয় মনসা পূজাকে ঘিরে।
পুরুলিয়াতে ধুমধাম করে পালিত হয় এই পূজা। আবেগে ভাষেন জেলাবাসী। ছুটির আমেজে কার্যত বন্ধের চেহারা নেয়।

এদিকে করোনা ঠেকাতে সাপ্তাহিক দুই দিন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। যার মধ্যে ১৬ ও ১৭ তারিখ মনসা পূজার দিন পড়ে যায়। এই নিয়ে জেলাবাসী চিন্তিত হয়ে পড়েন। প্রাচীন ও পরম্পরায় চলে আসা ঐতিহ্যবাহী এই পূজার তাহলে কীভাবে হবে? এই নিয়ে খবর সম্প্রচার হতেই জেলা প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।জেলাবাসীদের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয় প্রশাসন। অবশেষে রাজ্যসরকার নতুন করে সাপ্তাহিক লকডাউনের দিন ঘোষণা করে যাতে ১৬ ও ১৭ আগস্ট মনসা পূজার দিন লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। এই খবর চাউর হতেই খুশির হাওয়া বইছে পুরুলিয়ায়। জেলাবাসী  রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

এবিষয়ে পুরুলিয়া জেলা সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মূল কথা হল ক্যালেন্ডারে দিন ক্ষণগুলি নির্দিষ্ট না থাকায় একটা সমস্যা হয়েছিল। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর এই সব জেলাতে মনসা পূজা খুব উৎসাহের সঙ্গে হয়। এই পূজাতে আমাদের একটা  আবেগ থাকে। কিছু রাজনৈতিক দল এটাকে নিয়েও রাজনীতি করছে উস্কানি দিচ্ছে। এই লকডাউন ওঠানোর জন্য। একমাত্র পুরুলিয়ার মানুষের কথা মনে করে আমরাই মুখ্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা করিয়েছি। যাই হোক রাজ্য সরকারের করোনা মোকাবিলার যে নিয়ম রয়েছে, মুখে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বকে মেনে বাড়িতে পূজা উপভোগ করুন।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here