স্বস্তি মিলল না! পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আবেদন ফেরালো সুপ্রিম কোর্ট

আমাদের ভারত, ২৫ মে: স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মামলার আবেদন ফেরত পাঠিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আবেদনপত্রে একাধিক ত্রুটি থাকায় সেই আবেদনপত্র শীর্ষ আদালতে বাতিল হয়ে যায়। আর এর ফলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মামলার শুনানি হচ্ছে না সুপ্রিম কোর্টে। ফলে রক্ষাকবচ পেলেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

তবে শীর্ষ আদালত বলেছে, ত্রুটি সংশোধন করে আবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারবেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রী। স্কুল সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতিতে সিবিআইকে তদন্তভার দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। যদিও ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় বহাল রাখে। এরপর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। সুপ্রিম কোর্টেও তার করা মামলার আবেদন বাতিল হল। আর সেদিনই সিবিআই তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হলো পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।

আজ সকালে দক্ষিণ কলকাতার নাকতলার বাড়িতে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এরপর সকাল দশটার কিছু পরে নিজাম প্যালেস পৌঁছান তিনি। পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজের সম্পত্তির হিসেবের প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের জমা দেন।

সিবিআই তদন্তের বিরোধিতায় সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যদিও তাতে কোনো কাজ হয়নি। অন্তত তদন্তকারীদের সামনা সামনি হওয়ার আগে সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে রক্ষাকবচ তিনি পাননি। এদিকে তৃণমূলের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সিবিআইয়ের হাজিরা এড়াবে না দলের কোনো নেতা। সমস্ত নেতা-মন্ত্রীদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাজিরা এড়াতে নিষেধ করে তদন্তের সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। সেইমতো আজ কোনো রকম রক্ষাকবচ ছাড়াই রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেন। প্রশ্ন উঠেছে তার সম্পত্তি নিয়ে। খোদ বিচারপতি বলেছেন, তিনি জানেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সারমেয়র জন্য আলাদা একটি ফ্ল্যাট আছে। জানতে চেয়েছিলেন এই সম্পত্তির উৎস কি?

সম্প্রতি রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরিষদের মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি নিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। পরীক্ষা না দিয়েই চাকরি পেয়েছেন অঙ্কিতা। এই দুর্নীতির অভিযোগে অঙ্কিতাকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

আদালত আরও জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষিকার কোনো মর্যাদা থাকবে না তার সে স্কুলেও ঢুকতে পারবে না। এই ঘটনায় অবশ্যম্ভাবী ভাবেই পরেশ অধিকারীর দিকে অভিযোগে আঙ্গুল উঠেছে। দুর্নীতির তদন্ত করতে সিবিআই প্রয়োজনে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা করতে পারে পরেশ অধিকারীকে বলে জানা গেছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here