জেলার খবর

জন্মদিনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের সঙ্গে কাটালেন তারাপীঠের পার্থ

আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ৮ নভেম্বর: জন্মদিনে হইহুল্লোর করে কাটাতে পারতেন। কিন্তু বিলাসিতা না করে এই একটি দিন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু, তরুণ তরুণীদের সঙ্গে কাটালেন একাদশ শ্রেণির ছাত্র পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কেকও কাটলেন। দুপুরে মাংস ভাত দিয়ে চলল ভুরি ভোজ। জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বাড়ি তারাপীঠ। তারাতীর্থ বিদ্যামন্দিরের ছাত্র পার্থর বয়স ১৬ বছর। শুক্রবার ছিল তার জন্মদিন। এই দিনটিকে আর পাঁচ জনের মতো বন্ধু বান্ধব কিংবা আত্মীয়দের সঙ্গে রাজকীয় ভাবে কাটাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে সকাল থেকে কাটালেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের সঙ্গে। রামপুরহাট চাঁদমারি এলাকায় স্প্যাস্টিক সোসাইটিতে তাদের সঙ্গে কেক কাটে পার্থ। সঙ্গে ছিলেন বাবা পেশায় তারাপীঠ মন্দিরের সেবাইত প্রণব চট্টোপাধ্যায়, ভাই রামকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়, ভাগ্নে অয়ন চক্রবর্তী। দুপুরে প্রথমে কেক কাটা হয়। তারপর মোমবাতি নিভিয়ে জন্মদিন পালন করা হয়। দুপুরের মেনুতে ছিল ডাল, ভাত, আলু পোস্ত, মুরগির মাংস, চাটনি ও দুরকম মিষ্টি।

পার্থ বলেন, “এরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বলে অনাদর করা ঠিক নয়। কারণ এরাও কারও ভাই, কারও বোন। তাই আমার শুভ দিনে ওদের পাশে কাটাতে চেয়েছিলাম। সেই আশা আমার পূরণ হল”।

বাবা প্রণব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অন্যান্য বার বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যেই জন্মদিন পালন করা হয়। এবার ছেলেই বলেছিল সে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কাটাবে। ছেলের ইচ্ছেই আমাদের ইচ্ছে। তাই আমরা দিনটি রামপুরহাটে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কাটালাম”।

রামপুরহাট স্প্যাস্টিক সোসাইটির কর্ণধার নুরুল ইসলাম বলেন, “এখানে যারা থাকে তাদের প্রত্যেকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন। এরা পরিবার ছেড়ে এখানে থাকে। এদেরও ইচ্ছে হয় মাঝে মধ্যে হইহুল্লোর করে কাটাবে। এভাবেই যদি মানুষ তাদের বিশেষ দিন গুলিতে এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়ায় তাহলে এই সমস্ত ছেলেমেয়েদেরও ভালো লাগবে”।

Leave a Comment

1 + seven =

Welcome To Amaderbharat. We would like to keep you updated with the Latest News.