ন্যায্য বেতনের দাবিতে শিক্ষকদের অনশন নিয়ে শ্লেষের নাদ শঙ্খের

ন্যায্য বেতনের দাবিতে শিক্ষকদের অনশন নিয়ে শ্লেষের নাদ শঙ্খের

চিন্ময় ভট্টাচার্য

আমাদের ভারত, ১৮ জুলাই: ন্যায্য বেতনের দাবিতে অনশনরত প্রাথমিক শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ালেন কবি শঙ্খ ঘোষ। চিঠি প্রকাশ করে, শিক্ষকদের অনশনকে তিনি সমর্থন করেছেন। চিঠিতে এই আন্দোলন নিয়ে রাজ্য সরকারকে কার্যত কাঠগড়ায় তুলে কবি লিখেছেন, ‘এটা প্রায় অবিশ্বাস্য ব্যাপার যে, অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা প্রায় অর্ধেক বেতন পান। শিক্ষার বা প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে যে বিন্দুমাত্র সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে- মনে হয় সে বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন। এর প্রতিবাদেই সঙ্গতভাবেই নিপীড়িত শিক্ষক সমাজ আজ আন্দোলন করছেন।’ এতেই না-থেমে তিনি লিখেছেন, ‘সমস্ত নাগরিক সমাজের চোখের সামনে এটা যে ঘটতে পারছে এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই। মাঝে মাঝে আমাদের নিজেদের নিতান্ত অসহায় বলেও মনে হয়।’

ইতিমধ্যে টানা ছ’দিনে পা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য বেতনের দাবিতে অনশন। কিন্তু, তাতেও এখনও পর্যন্ত টনক নড়েনি সরকারের। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় উলটে দাবি করেছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি অন্যায্য। প্রাথমিক শিক্ষকদের কাজে ফিরে যাওয়ার কড়া নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু, পার্থবাবুর চাপের কাছে মাথা নুইয়ে অনশন তুলতে নারাজ প্রাথমিক শিক্ষকরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। এই পরিস্থিতিতে শঙ্খ ঘোষের চিঠি যে রাজ্য সরকারের মাথাব্যথা বাড়াবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

কারণ, রাজ্যে বাম জমানার পরিবর্তনের দাবিতে যে বুদ্ধিজীবীরা পথে নেমেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল মুখ ছিলেন মহাশ্বেতা দেবী ও কবি শঙ্খ ঘোষ। কিন্তু, পরিবর্তিত তৃণমূল জমানাতেও রাজ্য সরকার বা শাসক দল তৃণমূলের সব আচরণ যে তিনি খোলামনে মেনে নিতে পারছেন না, তা শঙ্খ ঘোষের প্রতিবাদে বারবার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। এর আগে বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের ডাকাতসর্দার-সুলভ কায়দায় ‘উন্নয়ন’ নিয়ে হুঙ্কারের প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল শঙ্খ ঘোষের কবিতা। তিনি লিখেছিলেন, ‘দেখ খুলে তোর তিন নিয়ন, রাস্তাজুড়ে খড়গ হাতে দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন।’ পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে এমন কবিতা লেখায় শঙ্খ ঘোষকে শাসক শিবিরের কম আক্রমণের মুখে পড়তে হয়নি। কিন্তু, তার পরও যে তিনি প্রতিবাদের ভাষা থামাতে নারাজ, তা যেন স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল এই চিঠি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ten − one =