দুষ্কৃতীদের না ধরে সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করছে পুলিশ, এই অভিযোগে ভাটপাড়ায় রাস্তা অবরোধ স্থানীয় বাসিন্দাদের

প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ৬ জুন: শনিবারই জগদ্দলের পালঘাট রোডে দুষ্কৃতীদের তান্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ জনকে সেই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি পিস্তল এবং ১৫ টি বোমা। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, যে দুষ্কৃতীরা এলাকায় প্রায় প্রতিদিন তাণ্ডব চালাচ্ছে তাদের না ধরে সাধারণ মানুষদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এই অভিযোগে ভাটপাড়া থানার পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন এলাকার মানুষ।

শুক্রবার রাতে ভাটপাড়া পৌরসভা ১২ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর বোমা, গুলি নিয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতি। গুলি, বোমা ছোড়ার পাশাপাশি এক বিজেপি নেতার বাড়ি সহ ১২টি বাড়ি এবং দোকান ভাঙ্গচুর করে। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করেও বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। বোমায় জখম হন ৪ জন পুলিশ কর্মী। প্রাণ বাঁচাতে বেশ কয়েকবার গুলিও চালাতে হয় পুলিশ কর্মীদের।

এরপর এলাকায় দুষ্কৃতীদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, “গতকাল রাতে পুলিশ এই ঘিঞ্জি বস্তি এলাকায় তল্লাশির নামে হেনস্থা ও জুলুম চালিয়েছে। যারা এই ঘটনায় জড়িত নয় এমন সাধারণ লোককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা এসে হামলা চালিয়েছে এই এলাকায়। সেখানে তাদের খোঁজ না করে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীরাই পুলিশি বর্বরতার শিকার হচ্ছেন।”

রোজ রোজ চলা দুষ্কৃতী তাণ্ডব ও দুষ্কৃতীদের ধরার নামে সাধারন এলাকাবাসীদের হেনস্থা করার অভিযোগে, তারা রাস্তা অবরোধ করেন।

রাস্তা অবরোধ ও গন্ডগোলের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জগদ্দলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম। তিনি অবরোধ কারীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, “সাংসদ অর্জুন সিং এলাকায় অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করছে। প্রশাসন সেই ঘটনার তদন্ত করতে পদক্ষেপ করছে। তবে যদি বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ সত্যি হয়, আমি প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাবো যে, ভালো ভাবে ক্ষতিয়ে দেখে নির্দোষদের মুক্তি দিতে।” লক ডাউনের মধ্যে করোনা পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করেই ঘোষ পাড়া রোড অবরোধ চলে দীর্ঘক্ষণ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here