রাস্তা তৈরি নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, পুলিশকে বেধড়ক মার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যদের, আহত এএসআই সহ ৪ পুলিশ কর্মী

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৮ জুলাই: রাস্তা তৈরি নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হল পুলিশ। বিবাদ সামলাতে আক্রান্ত হতে হল পুলিশকে। তাদের লক্ষ্য করে প্রথমে ইট পাথর ছোড়া হয় এবং বোমাবাজি করা হয়। পরে এক এএসআই সহ চার পুলিশ কর্মীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য শাজাহান মল্লিক ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগণার অশোকনগর থানার দোগাছি এলাকায়। আহত পুলিশ কর্মীরা হাবড়া হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি। ঘটনার পর ডিএসপি রোহেদ শেখের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে ওই পঞ্চায়েত সদস্যের ১০ জন অনুগামীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এলাকায় আজও থমথমে পরিস্থিতি। মোতায়ন রয়েছে র‍্যাফ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার শুরুর দিন দুই আগে। অশোকনগর থানা এলাকার দোগাছিতে দুই জমির মালিক পঞ্চায়েত শাজাহান মল্লিক এবং তৃণমূল নেতা সিরাজুল হকের মধ্যে একটি জমি নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। আগেও উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। বোমাবাজিও হয়েছিল। এরপর শনিবার সন্ধ্যে থেকে ফের সংঘাত চরমে ওঠে। অভিযোগ, শাজাহান মল্লিক ও তার অনুগামীরা সিরাজুলের বাড়ি চড়াও হয়। তার একটি গাড়িতে ভাঙ্গচুর চালায়। প্রতিবাদ করতে গিয়ে ধুন্ধুমার বাঁধে উভয় পক্ষের মধ্যে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এলাকাবাসীরা। খবর দেওয়া হয় অশোকনগর থানায়। এএসআই মৃণাল মণ্ডল সহ কয়েকজন পুলিশ কর্মী নিয়ে অশান্তি থামানোর জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছন।


( শাজাহান)

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোমাত্র শাজাহান সহ তাঁর অনুগামীরা ইট, বাঁশ নিয়ে পুলিশের উপর হামলায় চালায়। পুলিশের জিপ ভাঙ্গচুর করা হয়। ইট বাঁশের ঘায়ে জখম হন এক এএসআই মৃণাল মণ্ডল সহ দুই কনস্টেবল ও গাড়ি চালক। সকলকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। এক কন্সটেবলের কপালে ৫টি সেলাই পড়েছে। জখমদের মধ্যে এই কনস্টেবলের অবস্থাই সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান ডিএসপি রোহেদ শেখ। তাঁর নির্দেশে রাতভর অভিযুক্তদের খোঁজে চলে পুলিশি অভিযান। তাতেই ধরা পড়েছে ১০ জন। এদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিতে চায় পুলিশ। অশান্তি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে র‍্যাফ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here