মা ও মেয়ে খুনে প্রভুজির সন্ধানে হন্য হয়ে খুঁজছে পুলিশ

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ২৪ মে: মা ও মেয়ে খুনের কিনারা করতে প্রভুজির খোঁজে হন্য হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত প্রভুজির খোঁজ না পাওয়ায় খুনের কারণ নিয়ে ধন্দ থেকে গিয়েছে। তবে খুনের সঙ্গে তন্ত্র সাধনার যোগ রয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৭ মে মল্লারপুর থানার ফতেপুর গ্রামে বাড়ির ভিতর থেকে মা ও মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দুজনকেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে দাবি পুলিশের। মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকায় পুলিশের ধারণা একদিন আগেই খুন করা হয়েছিল মা মেয়েকে। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, খুনিরা যাওয়ার সময় দরজা খুলে রেখে গিয়েছিল। ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছিল বাড়ির গৃহকর্তা মিলন মণ্ডল। পুলিশ তাকে সিউড়ির একটি আশ্রম থেকে ধরে নিয়ে আসে। আটক করা হয় এক মহিলাকেও। যিনি গুরুমা নামে পরিচিত। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। কিন্তু এখন খোঁজ চলছে প্রভুজির। যার নিয়মিত মিলনবাবুর বাড়িতে যাতায়াত ছিল।

প্রভুজি আসলে সুনীল দাস। তার বাড়ি সিউড়ি। কয়েক বছর আগে তিনি প্রথম ওঠেন রামপুরহাট থানার তেলডা গ্রামে। সেখানে গোপাল মন্দির করা নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গ্রামবাসীদের কাছে বাধা পেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে তিনি আশ্রয় নেন মল্লারপুরের ফতেপুর গ্রামে। প্রথমে ভাড়া বাড়িতে থাকলেও বর্তমানে মাঠের মধ্যে বাড়ি তৈরি করেন। এরপরেই সাধুবেশে গোয়ালা, আম্ভা, শোয়াসা গ্রামে কখন যেতেন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে, কখন আবার কাপড় বিক্রি করতে। এভাবেই ফতেপুরের মাঠে তিনি গোপাল মন্দির তৈরি করেন। ওই মন্দিরে নিয়মিত কিছু ভক্তের যাতায়াত ছিল। ধৃত মিলনবাবু এবং তার স্ত্রী মেয়ে সেখানে যেতেন। ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে মিলনবাবু প্রভুজিকে মোটা অঙ্কের টাকা ধার দিয়েছিলেন। সেই টাকা নিয়েই পরিবারের সঙ্গে বিবাদের সৃষ্টি হয়। পুলিশের ধারণা সেই টাকা নিয়ে বিবাদের জেরেই প্রথমে খুন করা হয় ডলি মণ্ডল (৪৬) কে। অপরাধ দেখে ফেলায় বাড়ির নিচে খুন করা হয় মেয়ে রিমা মণ্ডল (১৭) কে। তবে পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে শুধু প্রভুজি সুনীল দাস নয়, এই খুনের পিছনে রয়েছে রামপুরহাটের এক যুবকও। সেও তন্ত্র সাধনার জন্য মাঝে মধ্যে ওই বাড়িতে যেত বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ওই দুজনকে হাতের নাগালে আনতে পারলেই খুনের কিনারা শেষ হবে বলে পুলিশের দাবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here