কুমারগঞ্জে কিশোরী খুনের ঘটনায় ১১ দিন পর চার্জশিট জমা পুলিশের, দ্রুততার নিরিখে রাজ্যে নজিরবিহীন মানছে পুলিশ

আমাদের ভারত, বালুরঘাট, ১৭ জানুয়ারি: কুমারগঞ্জে কিশোরী খুনের ঘটনায় ১১ দিন পর চার্জশিট জমা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের। দ্রুততার সাথে পুলিশের এমন চার্জশিট পেশ রাজ্যে অন্যতম নজিরবিহীন ঘটনা মানছে পুলিশ কর্মীদের একাংশ। এদিকে কিশোরী খুনে জেল হেফাজতে থাকা মূল অভিযুক্ত সহ তিন জনকে শুক্রবার বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক পুনরায় তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তুলেছিল মৃত ছাত্রীর পরিবার, সেগুলি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় চার্জশিটে যুক্ত হয়েছে নতুন করে বেশকিছু ধারা। এদিন অভিযুক্তদের পক্ষে জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী তথাগত বোস অভিযুক্তদের হয়ে জামিনের আবেদন জানালে স্পেশাল কোর্টের বিচারক দুলাল কর তা নাকোচ করে দিয়েছেন। আগামী ৩১ জানুয়ারী পুনরায় ধৃতদের আদালতে তোলা হবে।

বালুরঘাট জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী ঋতব্রত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর পুলিশ প্রশাসন রেকর্ড সময়ে চার্জশিট জমা করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ১২০বি, ৩৭৬ডি, ৩০২, ২০১, ৩৪আইপিসি ও এসসি-এসটি ধারায় মামলা রজু করেছে পুলিশ প্রশাসন।

৬ জানুয়ারি কুমারগঞ্জের সাফানগরে গঙ্গারামপুরের এক কিশোরীকে গণধর্ষণ করে খুন ও তারপরে পেট্রোল ঢেলে পোড়াবার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। যা নিয়ে জেলা জুড়ে আন্দোলনের জেরে পুলিশ তড়িঘড়ি মূল অভিযুক্ত সহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। যাদের বিরুদ্ধে প্রথমে গণধর্ষণ, খুন এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় কুমারগঞ্জ পুলিশ। পরে জাতীয় তপশিলি জাতি আয়োগের হস্তক্ষেপে এই মামলায় এসসিএসটি ধারা যুক্ত করতে বাধ্য হয় কুমারগঞ্জ পুলিশ। শুধু তাই নয় পর্যায়ক্রমে ঘটনার তদন্তকারী অফিসার কুমারগঞ্জ থানার ওসি সঞ্জয় মুখার্জ্জী এবং সার্কেল ইন্সেপেক্টর সুকুমার মিশ্রকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিএসপি (ডিইবি) বিনোদ ছেত্রীকে। যার পরে অবশ্য ১১ দিন কেটে যায়। জেলা পুলিশ সুপার জাতি আয়োগের প্রতিনিধি দলের কাছে ঘটনার সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা করার কথা বললেও ১১ দিন পর চার্জশিট আদালতে পেশ করে পুলিশ।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here