তৃণমূল বিধায়ক-সাংসদদের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজিং নিয়ে অসন্তুষ্ট প্রশান্ত কিশোর

রাজেন রায়, কলকাতা, ২৩ জুন: জেট গতির যুগে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছনোর সবচেয়ে দ্রুত মাধ্যম হল সোশ্যাল মিডিয়া। আর মানুষের মন পেতে সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করছে সমস্ত রাজনৈতিক দলই। কিন্তু এই সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে
তৃণমূল বিধায়ক থেকে সাংসদদের ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোর। অবিলম্বে পরিস্থিতির পরিবর্তন না করা হলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিপদ হতে পারে বলে তাঁর অনুমান।

প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর টিম ভারতীয় পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাকের দাবি, তৃণমূল নেতারা যেভাবে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া চালান, তাতে ২০২১-এ পরিস্থিতি ব্যুমেরাং হতে পারে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ধাক্কা খাওয়ার পরও এখনো বুঝেশুনে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করছেন না অনেক তৃণমূল সংসদ বিধায়করা।
তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়ে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ আরোপ করতে তৃণমূলকে পরামর্শ দিতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর, এমনটাই সূত্রের খবর।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ করার পরেও কোথায় মানুষের মনে জায়গা করে নিতে ঘাটতি হচ্ছে বা আর কি কি করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য শাসক দল তৃণমূলের সঙ্গে বহুদিন ধরেই যুক্ত আছেন পলিটিক্যাল গুরু প্রশান্ত কিশোর। নিজে কোনও রাজনৈতিক দলে না থেকেও তুখোড় রাজনৈতিক পরামর্শে সাফল্য পাইয়ে দিয়েছেন ব্যর্থতার কিনারে মুখ থুবড়ে পড়া দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে। এহেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরের পশ্চিবঙ্গে পর্যবেক্ষণ, তৃণমূলের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। বিধায়ক থেকে সাংসদ অনেকেরই প্ল্যাটফর্মে বা তাদের অ্যাকাউন্টে যে পোস্টগুলি দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধ্যানধারণা নেই। তৃণমূলের একাধিক নেতা-নেত্রীর পোস্ট নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতেই পারে এবং তা কার্যত লুফে নেবে বিরোধী দল। তাই এ বিষয়ে এবার কড়া অবস্থানের ভাবনা প্রশান্ত কিশোরের।

২০২১-এর আগে যাতে বুমেরাং না হয়ে যায়, তার জন্য দলকে তিনি পরামর্শ দেবেন সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচারের ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করতে। তা না হলে ২০২১-এর নির্বাচনী প্রচারে পিছিয়ে পড়বে তৃণমূল। দলের অনেক নেতা-নেত্রীই সোশ্যাল মিডিয়াকে সঠিকভাবে ব্যবহার করছেন না বলে অভিযোগ। তার আরও অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার শুরু হতে না হতেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেঁফাস মন্তব্য করে দলকে বিপদে ফেলে দিচ্ছেন অনেক নেতারা। তার খেসারত দিতে হচ্ছে দলকে, ধাক্কা খাচ্ছে প্রচার-পরিকল্পনা। আবার অনেক নেতা মানুষের কাছাকাছি থাকলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার নিজের কাজেরই পোস্ট করতে তার প্রচুর অনীহা। ফলে সীমিত এলাকার বাইরে ওই রাজনৈতিক নেতার ভাল কাজের নমুনা পৌঁছাচ্ছে না সাধারণ মানুষের সামনে।

উল্লেখ্য, প্রশান্ত কিশোরকে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের কৌশল গঠনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৯-এ লোকসভা ভোটের পর থেকে তিনি তৃণমূলের প্রচার পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র ম
এবং বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার পিছনে প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাক টিমের ভূমিকা ছিল। তারপর থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজ্যে বেশ কয়েকটি দলের হয়ে কাজ করেছেন। ২০২১-ও তাই বিধানসভা ভোট বৈতরণীও তাঁর পরামর্শের ওপরেই পার হতে চাইছে এ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। আর সেই রাজনৈতিক যুদ্ধের জন্য ২০২০ সালের জুন মাস থেকেই ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু করে দিতে চাইছে রাজনৈতিক কৌশলের প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাক টিম।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here