ভারত শান্তি চায়, কিন্তু উস্কানি দিলে যোগ্য জবাব দেওয়া হবে, চিনকে কড়া হুঁশিয়ারি মোদীর

আমাদের ভারত, ১৭ জুন: ভারত শান্তি চায়, কিন্তু উস্কানি বা প্ররোচনা দিলে উপযুক্ত জবাব পাবে চিন। দেশের অখন্ডতা নিয়ে কোনো সমঝোতা নয়। দেশের অখন্ডতা আমাদের কাছে সবার উপরে। এব্যাপারে কোন সমঝোতা করা হবে না। এইভাবেই চিনকে হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বলেন, আমাদের বীর সেনারা মারতে মারতে মৃত্যুবরণ করেছে।জাওয়ানদের বলিদান কখনোই ব্যর্থ হবে না। লাদাখের সীমান্তে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার।

চিন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষ নিয়ে নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে আলোচনা করতে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দপ্তর তরফে টুইট করে সর্বদলীয় বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে। শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিকেল পাঁচটায় ওই বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

প্রথমে মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ চিন ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সেখানে জানা যায় ভারতীয় সেনার এক কর্নেল ও ২ জওয়ান চিনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে শহীদ হয়েছেন। এরপর জানা যায় শুধু ভারতীয় সেনাই নয় নয় চিনা সেনাদেরও প্রাণ গিয়েছে পাল্টা আঘাতে। চিনের সরকারি মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমসে কথা স্বীকার করা হয়। পরে আবার জানা যায় তিন জন নয় ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহীদ হয়েছেন, আরও ১১০ জন আহত।

জানা গেছে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চিনা সেনাদের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছে তা নিয়ে মঙ্গলবার সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নারাভানের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক করেছেন নরেন্দ্র মোদী।এই বৈঠকে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং , অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারামন, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রাত দশটায় শুরু হওয়া বৈঠক চলেছে অনেক রাত পর্যন্ত। এর পরে খবর আসে ভারতীয় সেনার তিন জনই শহীদ হননি, মোট ২০ জন জ ওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ও ৪৩ জন জওয়ান নিহত হয়েছেন। যদিও বেজিংয়ের তরফে এখনো পর্যন্ত তাদের ক্ষয়ক্ষতির কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি।

জানা গেছে গালওয়ান উপত্যকায় বাফার ল্যান্ডে জোড় করে চিনা সেনা ঢুকে ভারতীয় ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিল। তাতেই প্রতিরোধ গড়ে তোলে ভারতীয় সেনা। তারপরই হামলা চালাতে শুরু করে চিনা জওয়ানরা। সোমবার রাতের এই ঘটনায় ভারতের ২০ জন শহীদ হয়েছেন। গালওয়ান উপত্যকার পয়েন্ট ১৪ থেকে কোনোভাবেই তাবু সরাতে রাজি হচ্ছিল না চিনা বাহিনী। এই নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় দু’পক্ষের। সাদা পতাকা নিয়ে আলোচনা জন্য গিয়েছিল ভারতীয় সেনা। কিন্তু তাতে রাজি হয়নি চিনা সেনা। তারপরই শুরু হয় পাথর বৃষ্টি। নিরস্ত্র অবস্থায় আলোচনায় বসতে যাওয়া ১৬ নম্বর বিহার রেজিমেন্টের উপর হামলা চালায় চিনা সেনাবাহিনী।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে এক আহত জাওয়ান বলেন,প্রায় ৮ ঘন্টা ধরে সেদিন ভয়ঙ্কর সংঘর্ষ চলেছে সেদিন। নিরস্ত্র জওয়ানদের ওপর হামলা চালাতে দ্বিধা করেনি চিনা জওয়ানরা। ভারতীয় জওয়ানদের নিকেশ করতে পাহাড়ে অভিযান চালায় চীনা সেনা। কাঁটা লাগানো রড দিয়ে হামলা চালায় তারা। নদীতে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।

বিবরণ দানকারী ওই জওয়ান জানিয়েছেন তিনি কোন মতে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তার দাবি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা চলছে আরও ১১০ জনের। তবে চিনেরও ৪৩ জন সেনার হতাহতের খবর মিলেছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here