আমফানে বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী, ১০০০ কোটি টাকা দেওয়ার আশ্বাস

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগনা, ২২ মে: আমফানে বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা একই হেলিকপ্টারে দুই ২৪ পরগনার বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেই কপ্টারে ছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও। আরও একটি হেলিকপ্টারে ছিলেন এই রাজ্য থেকে নির্বাচিত দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরী। পরিদর্শন শেষে বসিরহাটে বৈঠক করেন মোদী ও মমতা। বৈঠকে মোদী বলেন, এই মুহুর্তে ১০০০ কোটি টাকা তিনি পাঠাবেন। মৃতদের পরিবারের হাতে দুই লক্ষ টাকা করে দেওয়া আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকরা ফের পরিদর্শনে এসে আরও ক্ষতি পূরণ লাগলে তিনি রাজ্যকে দেবেন বলে আশ্বাস দেন।

ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। একই অবস্থা ওড়িশারও। তবে বাংলার ক্ষতি তুলনায় বেশি। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৮২ জনের। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পরিদর্শনে এলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন আকাশ পথে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে করেন বৈঠক। সেই বৈঠক হয় বসিরহাটে। সেখানে রাজ্যের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনা হয় প্রায় এক ঘন্টা। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ওড়িশার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে বয়ে যায় বিধ্বংসী ঘুর্ণিঝড় আমফান। ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতা। এযাবৎ নথিভুক্ত বঙ্গোপসাগরের সাইক্লোনগুলির মধ্যে আমফান ছিল সবচেয়ে সাংঘাতিক। কলকাতার ওপর দিয়ে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঝড় বয়ে যায়। ব্যাপক ক্ষতি হয় কলকাতারও। বহু গাছ ও বিদ্যুতের পোল উপড়ে যায়। অনেক বাড়িরও ক্ষতি হয়।

প্রধানমন্ত্রী ওই দিনই টুইট করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের অনেক ছবি দেখলাম। সাইক্লোন আমফান ভয়ংকর ক্ষতি করেছে। এখন খুব কঠিন সময়। সারা দেশ বাংলাকে সমবেদনা জানাচ্ছে। ওই রাজ্যের মানুষের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করছি। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি যাতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।”এরপরেই এদিন প্রধানমন্ত্রী নিজে এলেন পরিস্থিতি দেখতে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here