বারুইপুর সংশোধনাগারে আত্মঘাতী বিচারাধীন বন্দি

আমাদের ভারত, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, ১৩ সেপ্টেম্বর:
নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল খোদ বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনায় অভিযুক্ত বাবার বিরুদ্ধে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের বাকি সদস্যরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার তপন ভাঙ্গর নামে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ধৃতকে আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ ধৃতকে বারুইপুর সংশোধনাগারে নিয়ে যায় শনিবার বিকেলে। সেই রাতেই সংশোধনাগারের বাথরুমে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন অভিযুক্ত। রবিবার সকালে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অপমানে আত্মঘাতী হয়েছেন ঐ ব্যক্তি। দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত বোড়াল নতুনহাট কাজিপাড়ার বাসিন্দা তপন ভাঙ্গর। নিজের মেয়েকেই তপন দিনের পর দিন ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ নির্যাতিতার। বিগত দু’বছর ধরে অভিযুক্ত বাবা মেয়েকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিলেন। অভিযোগ, বাবা তার মেয়েকে ভয় দেখিয়ে ঘটনার কথা কাউকে না জানানোর হুমকি দেয়। বাবার ভয়েই সে কাউকে ঘটনার কথা বলতে পারেনি। অবশেষে সেই নির্যাতিতা বাবার এই অমানসিক অত্যাচার আর সহ্য করতে না পেরে নিজের পিসির কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। এরপরই নির্যাতিতার পিসি নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে বিশেষ আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এরপর নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ শনিবার অভিযুক্তকে বারুইপুর সংশোধনাগারে পাঠায়। সেখানেই শনিবার রাতে সকলের অলক্ষ্যে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় তপন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here