হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন মমতা, অভিযোগ জানিয়ে কমিশনকে চিঠি বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কার

আমাদের ভারত, ১৪ সেপ্টেম্বর:মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি। এমনটাই অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিলেন বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। অভিযোগ মমতার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা রয়েছে যা হলফনামায় উল্লেখ করেননি তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলফনামায় উল্লেখ করেছেন গত আর্থিক বছরের তুলনায় এই আর্থিক বছরে তার পাঁচ লক্ষ টাকা আয় বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তার ১৫ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯৪৫ টাকা। এখনকার ব্যাংকের রয়েছে ১৩ লক্ষ ১১ হাজার ৫১২ টাকা। তার অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৮ হাজার ২৯ টাকা।‌ তার নামে কোন বাড়ি,গাড়ি, জমি, এমনকি পৈতৃক সম্পত্তিও নেই যা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার কোনো ঋণও নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বেশ কতগুলি মামলা রয়েছে, সেকথা হলফনামায় উল্লেখ করেননি মমতা। আর সেই প্রশ্ন তুলেই কমিশনকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।

এর আগেও ভবানীপুর নিয়েই কমিশনের কাছে দরবার করেছিল পদ্ম শিবির। একুশের নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দু যেমন ছিল নন্দীগ্রাম এখন উপনির্বাচনের সব ফোকাস ভবানীপুর। বিধানসভার নির্বাচনে ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষকে ২৮ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি পদত্যাগ করেন।‌ তারপর সেখানে প্রার্থী হন মমতা স্বয়ং।

বিজেপি ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে উপনির্বাচনে। ভবানীপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাকে সামনে রেখে বারবার প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের নাম শিরোনামে উঠে এসেছে। দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীরা বার বার প্রিয়াঙ্কাকে তাদের লড়াকু নেত্রী হিসেবে তুলে ধরেছেন। ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে লাগাতার লড়াই চালিয়ে গেছেন প্রিয়াঙ্কা। যার ফলশ্রুতিতে হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই তদন্ত চলছে রাজ্য জুড়ে। এবার সেই প্রিয়াংকাই মমতার বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী।

ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা যেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেন তার সঙ্গে সেদিন ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেছিলেন,”রাজ্যে হিংসা বন্ধ করতে হবে, হিংসা ও খুনের খেলা বন্ধ হবে। ভবানীপুরের মানুষ একবার ভোট দিয়েছিল সেটাই ছিল গণতন্ত্র। যেটা মানতে হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর জোর করে আবার ভোট করাচ্ছেন, কারণ ওর চেয়ারে বসার জেদ আছে।”

কমিশনের কাছে বিজেপির তরফে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে ৩০সেপ্টেম্বর যে তিন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট রয়েছে সেখানে নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।প্রতিটি বুথে সিআরপিএফকে রাখতে হবে। তিন কেন্দ্রে মোট ১২০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন। নির্বাচনী কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কলকাতা বা রাজ্য পুলিশের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের আশঙ্কা প্রশাসনের মাধ্যমে শাসকদল ভোটারদের ওপর ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছে কড়া নজরদারির দাবি তুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here