করোনার মধ্যেই দেশের দুই সীমানায় উত্তেজনা! লাদাখ সীমান্তে চিনা চপার, কাশ্মীরে যুদ্ধের জিগির পাক মন্ত্রীর

আমাদের ভারত, ১২ মে : ভারত চিন লাইন অফ একচুয়াল কন্ট্রোলে নিয়ন্ত্রণ রেখায় ফের উত্তেজনা। লাদাখের কাছে নিয়ন্ত্রণ রেখার একেবারে সামনে দিয়ে উড়ে গেছে চিনা বায়ুসেনার চপার। সে খবর পেতেই নিয়ন্ত্রণরেখায় টহলদারি শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় বায়ু সেনার বিমান। এদিকে কাশ্মীর সীমান্তে লাগাতার সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি লংঘন করে হামলা চালাচ্ছে পাক সেনা। কাশ্মীরে লাগাতার ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তারই মধ্যে ফের যুদ্ধের জিগির তুলেছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার।

আইএএফ সীমান্তে যুদ্ধ বিমান পাঠানো শুরু করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। ভারত-চিন সীমান্ত বরাবর চিনা সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গেছে। আর সেটা দেখা যেতেই সতর্ক হয়েছে ভারতের বায়ু সেনাও। সীমান্তে চিনা হেলিকপ্টারের মুভমেন্ট বেড়েছে। সেটা জানতে পেরে ভারতের যুদ্ধবিমান তড়িঘড়ি লাদাখ সেক্টরে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

জানা গেছে বেশ কয়েক বছর আগেও এভাবে কখনো এই সীমান্তে চিনা বায়ুসেনার বিমান কিংবা হেলিকপ্টার এত সংখ্যায় দেখা যায়নি। চিন বায়ুসেনা সীমান্ত লঙ্ঘনের যে চেষ্টা করেছে তাতে চিন্তা বেড়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে পূর্ব লাদাখে গুলির লড়াই হয়। উত্তর সিকিম নাকুলা পাসের কাছে এগুলি লড়াই হয়। মে মাসের ৫ তারিখে প্যানগগ লেকের উত্তর তীরে দুই সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। যা পরের দিন সকালে কথা বিনিময়ের পর থামে। এই ঘটনায় দুপক্ষের সেনাই চোট পেয়েছিল। দু-পক্ষই একে অপরকে পাথর ছুড়ে ছিল। এই ঘটনায় প্রায় ২০০ সেনা যুক্ত হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামলাতে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।

অন্য আরেকটি ঘটনায় ১৫০ ভারতীয় ও চিনা সেনার মধ্যে লড়াই হয়েছে। নাকুলা পাশের কাছে সেই ঘটনা সিকিম সেক্টরে ১০ জন সেনা আহত হয়েছেন।

এদিকে মঙ্গলবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরে করোনা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি গ্রামের পরিদর্শনে যান পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী ফারুক হায়দর। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “ভারত-পাক কাশ্মীরের আবহাওয়া তথ্য দিচ্ছে। আমাদের উচিত দিল্লির আবহাওয়ার বিবরণ দেওয়া। এবার আর আলোচনা নয়। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উচিত ভারতে হামলা চালানোর জন্য পাক ফৌজকে আদেশ দেওয়া।”

করোনার মত সংকটেও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি। করোনার কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি টালমাটাল। তবুও সেদেশের মন্ত্রীর ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জিগির তুলতে ব্যস্ত।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here