কাটমানি ইস্যুতে রামপুরহাটে ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়িতে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ৪

কাটমানি ইস্যুতে রামপুরহাটে ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়িতে বিক্ষোভ, গ্রেফতার ৪

আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ১৯ জুলাই: কাটমানি ইস্যুতে কাউন্সিলরের বাড়িতে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হল চার উপভোক্তা। ঘটনাটি ঘটেছে রামপুরহাট পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা ভাইস চেয়ারম্যান সুকান্ত সরকারের বাড়িতে। এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দিন কয়েক আগেই রামপুরহাট পুরসভা এলাকায় কাটমানি ঝড় আছড়ে পড়েছে। প্রথমে ৩ নম্বর ওয়ার্ড। পরে ১১ নম্বর ওয়ার্ড হয়ে এবার খোদ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের সুকান্ত সরকারের বাড়িতে। শুক্রবার দুপুরে কয়েকজন উপভোক্তা কাটমানি আদায়ে ভাইস চেয়ারম্যানের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লির বাড়িতে জমায়েত হন। তাদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। সেখানে তারা নিম্নমানের কাজ ও অতিরিক্ত টাকা ফেরতের দাবি জানাতে থাকে।

এলাকার বাসিন্দা স্বান্তনা লেট বলেন, “সরকার থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছে। অথচ ঠিকাদার আমাদের নিম্নমানের কাজ করে দিয়েছে। বাড়ির ছাদ ফেটে ভিতরে জল পড়ছে। ভাল বাড়ি নির্মাণের জন্য এক লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমি ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছি। তাতেও বাড়ি ঠিক মতো হয়নি”।

টুনটুনি সর্দার বলেন, “প্রথম দিন থেকেই বাড়ির ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে। কাউন্সিলরকে জানিয়েও লাভ হয়নি। বরং কাউন্সিলর উল্টোপাল্টা কথা শোনান”।

মমতা সরকার বলেন, “বৃষ্টি হলেই বিছানা গুটিয়ে রাত কাটাতে হয়। কারণ বাড়ির ছাদ থেকে অঝরে জল পড়ে। বৃষ্টি শেষ হলে জল মুছে আবার বিছনা পাততে হয়। কাউন্সিলরকে জানিয়েছি। কিন্তু হচ্ছে হবে বলে দায় সেরেছে”।

খবর পেয়ে পুরসভা থেকে বাড়ি ফেরেন সুকান্তবাবু। এরপরেই উপভোক্তাদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। তিনি বলেন, “আমি নিয়মিত ওই পাড়ায় যাই। কোনও অভিযোগ থাকলে ওরা আমাকে জানাতে পারত। পুরসভায় এসে আমাকে কিংবা চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানাতে পারত। কিন্তু তারা তা না করে আমার বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে আমার সম্মানহানি করেছে। সে সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমার স্ত্রীকে ওরা অপমান করেছে। এই বেয়াদপি মেনে নেওয়া যায় না”।

খবর পেয়ে পুলিশ চারজনকে আটক করে। পরে সুকান্তবাবুর স্ত্রী তনুশ্রী সরকারের অভিযোগের ভিত্তিতে আটকদের গ্রেফতার করে।

ধৃত শ্রীকৃষ্ণ সরকার বলেন, “আমরা এসেছিলাম নিম্নমানের ঘরের কথা কাউন্সিলরকে জানাতে। কিন্তু তিনি পুলিশ ডেকে আমাদের ধরিয়ে দিলেন”।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 2 =