“নিজেরাই নিজেদের শেষ করছে, কংগ্রেস এখন ডুবন্ত টাইটানিক” কটাক্ষ আপ নেতার

আমাদের ভারত, ১৮ সেপ্টেম্বর:নভজোৎ সিং সিধুর সঙ্গে বিরোধের শেষ পরিণতিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হলো অমরিন্দর সিং-কে। এমনকি দল ছাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ক্যাপ্টেন। ফলে পাঞ্জাব কংগ্রেসের অন্তর্কলহ ও দলের অভ্যন্তরে কঙ্কালসার ছবিটা আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে বলে মত বিরোধীদের। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে অমরিন্দরের ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই সমালোচনায় বিদ্ধ কংগ্রেস। আম আদমি পার্টির নেতারা পাঞ্জাব কংগ্রেসকে ডুবন্ত টাইটানিক বলে উপহাস করেছেন।

আম আদমি পার্টির ২০২২ বিধানসভা ভোটের দায়িত্বে থাকা রাঘব চাড্ডা বলেন কংগ্রেসের অবস্থা এখন ডুবন্ত টাইটানিকের মত। কংগ্রেসের এই পরিস্থিতির কারণে পাঞ্জাবের প্রশাসনিক ব্যবস্থার থমকে গেছে। তার মতে পাঞ্জাব কংগ্রেসে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে যে গেম অফ থ্রোনস চলছে। তার ফলে সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। ক্ষমতা দখলের এই নোংরা খেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাঞ্জাবের প্রশাসন।

চাড্ডার আরও বক্তব্য, “কংগ্রেস এখন গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। ওরা এখন নিজেরাই নিজেদের শেষ করছে। কংগ্রেসকে এখন আর ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। কংগ্রেস এখন ডুবন্ত টাইটানিকের মত।”

সূত্রের খবর দলের ৫০ জন বিধায়ক সোনিয়া গান্ধীকে অমরিন্দরকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে অপসারণ নিয়ে চিঠি লিখেছিলেন। ফলে আজ বিকেল পাঁচটায় বিধায়কদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়। পাঞ্জাব বিধায়কদের দিয়ে ইতিমধ্যে দলকে চাপে রাখা হচ্ছিল যাতে, অমরিন্দর সিং-এর জায়গায় অন্য কাউকে আনা হয়। কিন্তু তার আগেই অমরিন্দর ইস্তফা দেন। কংগ্রেসের টালমাটাল পরিস্থিতি আর তারপর আম আদমি পার্টির এই ধরনের উপহাস কার্যত প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিলো বিজেপি বিরোধী মহাজোটের সম্ভাবনাকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা বিজেপি বিরোধী জোটের কথা অনুযায়ী সেখানে সোনিয়া গান্ধী ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পাশাপাশি থাকার কথা। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় কেজরিওয়ালের। দিল্লি বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। আর পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনেও কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিচ্ছেন কেজরিওয়াল। এই পরিস্থিতিতে রাজিব চাড্ডার এই মন্তব্য বিরোধী জোট গঠনের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here