লকডাউনে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের সুবিধার জন্য “বিকল্প বন্ধু পরিষেবা” চালু করল রায়গঞ্জ জেলা পুলিশ

আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১০ এপ্রিল:
বৃদ্ধ বৃদ্ধা থেকে শুরু করে শারীরিক প্রতিবন্ধী, লক ডাউন চলায় এই সকল মানুষ বাইরে বেড়িয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র থেকে খাদ্যসামগ্রী আনতে পারছেন না। এমনকি ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে কোনও জরুরি কাজ থাকলে তাও করতে পারছেন না তাঁরা। কিন্তু আর চিন্তা নেই, শুধু মাত্র একটা ফোন কল, আর সেই ফোন পেয়েই আপনার বাড়িতে পৌঁছে যাবে প্রাইভেট কার। আপনাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আপনার কাজ শেষ হয়ে গেলে আবার পুনরায় আপনাকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে যাবে। লক ডাউনে আজ থেকে রায়গঞ্জ জেলা পুলিশ চালু করল”বিকল্প বন্ধু পরিষেবা”। সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যে ছটা পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকবে। রায়গঞ্জ জেলা পুলিশ ও রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে প্রবীন ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য এই পরিষেবা মিলবে রায়গঞ্জ, করণদিঘি, হেমতাবাদ, ইটাহার ও কালিয়াগঞ্জ থানা এলাকায়।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে লক ডাউনে সাধারণ মানুষের স্বার্থে পুলিশের নানাভাবে মানবিক মুখ দেখা গিয়েছে। তবে রায়গঞ্জ জেলা পুলিশের এই
“বিকল্প বন্ধু পরিষেবা” নিঃসন্দেহে অনন্য নজির গড়েছে। রায়গঞ্জ বোগ্রামে রায়গঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের অফিসে ” বিকল্প বন্ধু পরিষেবা ” ফ্ল্যাগ অফ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুর জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মীনা, রায়গঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমার, রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী, সভাপতি ডাঃ শান্তনু দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিকিতা ফোনিং সহ বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে লক ডাউন সফল করার লক্ষ্যে একের পর এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়ে চলেছে রাজ্যের পুলিশ। রেশন দোকান থেকে গ্যাসের ডিলার কিংবা বাজার এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আবেদন জানিয়ে ছুটে চলেছে পুলিশ। ঘরবন্দি মানুষকে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া থেকে মনোরঞ্জনের জন্য গানও শোনাচ্ছেন পুলিশ কর্মীরা। তবে এবার রায়গঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জেলার প্রবীণ নাগরিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষদের তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করতে বাইরে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যাবস্থা করা হল। রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও রায়গঞ্জ জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে চালু হল ” বিকল্প বন্ধু পরিষেবা “। প্রবীন নাগরিক কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষজন ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের কাজ হোক কিংবা ওষুধপত্র কেনা থেকে শুরু করে হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে গিয়ে চেকআপ করার প্রয়োজন হলে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের দেওয়া নম্বরে ফোন করলেই তাদের বাড়িতে পৌঁছে যাবে প্রাইভেট কার। সেই গাড়িতে চেপেই তাঁরা প্রয়োজনীয় কাজ সেড়ে আবার বাড়িতেই ফিরতে পারবেন। এই বিকল্প বন্ধু পরিষেবায় থাকছে শিশুদের টীকাকরণ করার সুবিধাও।

রায়গঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন, রায়গঞ্জ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তা নিয়ে রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পাঁচটি থানাতেই এই বিকল্প বন্ধু পরিষেবা দেওয়া হবে। লক ডাউনে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষরা যাতে তাঁদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারেন সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানান

Please enter your comment!
Please enter your name here